হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৫ পিএম
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ছবি: বাসস
ঢাকার হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যা মামলায় আসামি সিয়ম হোসেন ইমন (১৯) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি শুক্রবার আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন গ্রেপ্তার সিয়ামকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সিয়ামকে ঢাকার কাঁঠালবাগান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে সিয়াম আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় একই শ্রেণির ছাত্রী বিন্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। তবে পরে সিয়ামের সন্দেহ হয় যে বিন্তি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এ নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে তাদের মধ্যে প্রায় আট মাস সম্পর্ক ছিল না। গত বছর বিন্তির সঙ্গে আবার যোগাযোগ হলেও তার সন্দেহ দূর হয়নি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, আসামি তার পরিচিত আবরার আলিফ নামেন এক বন্ধুর মাধ্যমে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তাতে রাজি হয়। বিষয়টি প্রমাণস্বরূপ আসামি ভিকটিমের কাছে তুলে ধরলে ভিকটিম পুনরায় তা অস্বীকার করে। এর প্রেক্ষিতে আসামি ভিকটিমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভিকটিম দোষ স্বীকার না করায় তাকে হত্যা করবে এমন পূর্বপরিকল্পনা করে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন সিয়াম ট্যানারি মোড় থেকে একটি ধারালো চাকু কেনেন। ওইদিন সন্ধ্যায় সিয়াম দেখা করার জন্য বিন্তিকে রায়েরবাজার হাইস্কুলের সামনে ডাকেন। মেয়েটি আসার পর তারা রিকশায় করে বাংলামোটর এলাকায় যায় এবং সেখান থেকে আবার রায়েরবাজার হাইস্কুলের সামনে আসে। পরে বিন্তির বাসার কাছের ঘোরাফেরা করার সময়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। এ সময় অন্য কারও সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বিন্তি। এরপর আসামি হঠাৎ ভিকটিমকে জাপটে ধরে পেটে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পরে কাঁঠালবাগানে তার দাদার বাসায় চলে বাসায় যান। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও রক্ত মাখা শার্ট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিন্তির বাবা মো. বিল্লাল হোসেন বৃহস্পতিবার হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।