প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৪ পিএম
স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী জীবন হোসেন ওরফে মুকুলকে বুধবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। প্রতীকী ছবি
ঢাকার ভাটারা এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার দায়ে স্বামী জীবন হোসেন ওরফে মুকুলকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার ১০ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বুধবার এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান।
আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করেছেন।
তবে বর্তমানে আসামি জামিনে বের হয়ে পলাতক রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালে মুকুল এবং মোছা ফাহিমা বেগম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি ৬ মাস বয়সী সন্তান রয়েছে।
মুকুল চট্টগ্রামে বার্ণিচারের কাজ করতেন। ঘটনার কয়েক দিন আগে এই দম্পতি ঢাকার ভাটারা এলাকায় আসে। পরনারীর প্রতি আসক্ত থাকায় মুকুল ফাহিমাকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন বলেও বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই দম্পতি খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকাল ৭ টার দিকে মুকুল ও ফাহিমার ছেলের কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে ফাহিমার পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার পর ফাহিমার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মুকুল তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ভাটারা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুকুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
২০১৫ সালের ১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার শুনানিতে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এদিন মৃত্যুদণ্ডের রায় এল।