প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৩ পিএম
ফাইল ফটো
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুক্রবার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার।
তাহমিনা আক্তার জানান, রিমান্ড শেষে সাফিকুর রহমান ও বাসার গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন এমন আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া। পরে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। তবে সেখানে সাফিকুর রহমান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুরের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি বিথী এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসায় নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে আসেন। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে বাবা গোলাম মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার অল্পবয়সী মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখতে গেলেও এরপর তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি সাফিকুরের স্ত্রী বিথী ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে হবে। সন্ধ্যায় মেয়েকে বুঝে নেওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন দেখতে পান বাবা গোলাম মোস্তফা। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটি অভিযোগ করেছে যে তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হতো।
ঘটনার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।