প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
ঢাকার ধানমন্ডিতে সাত বছর আগে সংঘটিত আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি বাচ্চু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (নতুন ১৫) রোডের ‘লোবেলিয়া হাউজ’ নামের একটি ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আফরোজা বেগম (৬৫) ও তার গৃহকর্মী দিতি (১৮)-র রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। আফরোজা বেগম টিমটেক্স গ্রুপের এমডি ও ক্রিয়েটিভ গ্রুপের ডিএমডি কাজী মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি ছিলেন।
ঘটনার সময় আফরোজা বেগম ওই ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। একই ভবনের উল্টো দিকের ফ্ল্যাট এবং ওপরের তলায় ডুপ্লেক্স বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তার মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা। তিনি ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে দিলরুবা তার বাসার গৃহকর্মী দিতিকে আফরোজার ফ্ল্যাটে কাজের জন্য পাঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে তিনি বাসার কর্মী রিয়াজকে মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠান। রিয়াজ গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পান এবং ভেতরে ঢুকে আফরোজাকে ডাইনিং রুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশের গেস্টরুমে দিতির মরদেহ পড়ে ছিল।
প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরবর্তীতে তদন্তভার পায় পিবিআই। ঘটনার প্রায় ২৭ মাস পর ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১১ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচারকালে ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।