প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৯ এএম
একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু (বাঁয়ে) দৈনিক এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত (ডানে)। কোলাজ ছবি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলমান থাকায় দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও তার স্ত্রী-কন্যার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৮ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং তার স্ত্রী-কন্যার নামেও বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১১ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক বায়োজিদুর রহমান খান পরিবারের সদস্যসহ দুই সাংবাদিকের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে শ্যামল দত্ত, তার স্ত্রী সঞ্চিতা দত্ত ও কন্যা সুষমা শশী দত্তের নামে থাকা ১৮টি ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৬৫ টাকা রয়েছে।
আর মোজাম্মেল হক বাবু, তার স্ত্রী অপরাজিতা হক ও মেয়ে শাবাবা ইশায়াত হকের ১১টি ব্যাংক হিসাবে রয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল হক বাবুসহ তাদের স্ত্রী-সন্তানের নামে বেশ কিছু অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে এসব অস্থাবর সম্পদ অর্জনের স্বপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট উৎস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এসব সম্পদ নানাভাবে হস্তান্তর বা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত উৎস আড়ালের চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিংজনিত অপরাধ। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে সপরিবারে ভারতে যাওয়ার সময় শ্যামল দত্তকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর সরকার পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন মোজাম্মেল বাবু। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর সময় তাদেরকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় রিমান্ডেও।