প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: ফাইল ফটো
চিকিৎসার কথা বলে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি চেয়েও পাননি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন। তার করা আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
শুনানি শেষে মঙ্গলবার তার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ। এ তথ্য জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী মো. রায়হান তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবমুক্ত করে একমাসের বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।
আইনজীবী মো. রায়হান আদালতে বলেন, “মোয়াজ্জেম হোসেনকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করছেন এবং আইনগতভাবে তা মোকাবিলা করবেন”।
মো. রায়হান জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত পান। তার স্পাইনাল কর্ড থেকে ফ্লুইড বের হয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ড থেকে মেডিকেল ভিসার ইনভাইটেশন লেটারও পাঠানো হয়েছে। তাই তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবমুক্ত করে এক মাসের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এরপর তিনি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেনকে সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন।
পরবর্তীতে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ এপ্রিল তাকে এপিএস পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এরপর ২২ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুদিন পর, ২৪ মে আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন-এমন আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত করা ও এনআইডি ব্লক করা প্রয়োজন।