প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৩ পিএম
ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও নিউজপোর্টাল বাংলা ইনসাইডারের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীরে বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাটি বাতিল করে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
ঢাকার
সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী বুধবার এ আদেশ দেন।
আসামিদের
বিরুদ্ধে যে ধারায় এ মামলা করা হয়েছিল, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সেই ধারাগুলো অন্তর্বর্তী
সরকার বাতিল করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল মিয়া। তিনি
বলেন, “এজন্য আদালত আজ তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা বাতিল করে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন।”
এর
আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট এ মামলায় নঈম নিজাম ও বোরহান কবীরকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায়
বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দিয়েছিল একই ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশক ময়নাল
হোসেন চৌধুরী আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছিলেন।
এই
তিন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ জুলাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। সিআইডি
আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ
করা হয় গত বছরের ২ জুন।
ব্যারিস্টার
এম সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নঈম নিজামসহ সাত জনের বিরুদ্ধে
মামলা করেন। এরপর আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত
করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়।
ওই
মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়, তারা হলেন- ফেইসবুক পেইজ ভাইরাল প্রতিদিনের অ্যাডমিন,
বর্ণনাকারী, ভিডিও প্রস্ততকারী ও টেকনিশিয়ান। গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনজনকে অভিযুক্ত
করে প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডির উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।
মামলার
অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘নুসরাতকে দিয়ে
বিচ্ছু সামশু সিন্ডিকেটের ফের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তা অনলাইনেও
দেওয়া হয়।
সেখানে
বলা হয়, “নুসরাতের আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড
হামলার সঙ্গে ব্যারিস্টার এম সারোয়ারের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী
গুজব ও অপপ্রচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং
নাশকতার একাধিক মামলা রয়েছে। মুনিয়া ইস্যু নিয়ে তারা এর আগেও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে
মেতে উঠেছিলেন।”
এছাড়াও
আসামিরা ব্যারিস্টার সরোয়ারকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার হোতা হিসেবে উল্লেখ করে সেসব
তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলায়
সারোয়ার বলেছেন, তিনি নুসরাতের আইনজীবী নন। নুসরাতের মামলার নারাজি আবেদনের শুনানিতে
অংশ নিয়েছিলেন।
মামলার
অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলা ইনসাইডারে ‘কে এই সারোয়ার’ শিরোনামে
প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সারোয়ার
বলেন, ফেইসবুক পেইজ ভাইরাল প্রতিদিনে তাকে নিয়ে ‘উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে’ লেখা হয়েছে
সে সময়।