প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৮ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান (বাঁয়ে) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। কোলাজ : প্রবা
পৃথক ঘটনায় তলবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
একটি টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে করা একটি মন্তব্যের জন্য ফজলুর রহমানকে তলব করা হয়েছিল। তাকে ৮ ডিসেম্বর একাডেমিক, বার কাউন্সিল সনদসহ আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ফজলুর রহমান আদালতের কাছে ‘আনকন্ডিশনাল অ্যাপোলজি’ (নিঃশর্ত ক্ষমা) প্রার্থনা করেছেন। তিনি একটা পিটিশন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যা কিছু তিনি বলেছেন, সেটা ভুলে বলেছেন এবং তিনি আদালতের ‘মার্সি’ চান। ক্ষমা চেয়ে করা এই আবেদনের বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী ৮ ডিসেম্বর শুনানির নির্ধারিত দিনে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তাজুল ইসলাম। তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে ফজলুর রহমানের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।
সম্প্রতি এক টিভি টক শোতে তার করা একটি মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘টক শো’তে ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি এই ট্রাইব্যুনাল মানেন না। কারণ, এই ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য। এই ট্রাইব্যুনালে অন্য কোনো বিচার হতে পারে না।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম–নির্যাতন–হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি পৃথক মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে জেড আই খান পান্নাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু অভিযোগ গঠন শুনানির নির্ধারিত সময় বুধবার বেলা ১১টায় আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে তলব করে ট্রাইব্যুনাল। পরে তিনি দুপুরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং স্টেট ডিফেন্সের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনাল তাকে হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করেন।
গত ২৩ নভেম্বর সকালে শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। পরে এ বিষয়ে শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে তাকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেন।
এরপর ২৭ নভেম্বর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পান্না ঘোষণা দেনÑ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি শেখ হাসিনার আস্থা নেই। যে আদালতের প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার আস্থা নেই, সে আদালতে তো আমি তাকে ডিফেন্ড করতে পারি না; উচিত না, অনৈতিক।
তিনি জানান, তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পাননি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন, না পেলে এটাই তার সিদ্ধান্ত যে তিনি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবেন না।