প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:১৪ এএম
প্রতীকী ছবি।
রাজধানীর শাহজাহানপুরে দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে রাখায় অভিযুক্ত স্বামী আশিকুর রহমান (২৬) আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলামকে (২৪) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) পঞ্চগড়ের হাঁড়িভাঙা ইউনিয়নের বুকধুলিপাড়া সাকিনস্থ ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই মহসিন তালুকদার। এদের মধ্যে আশিকুর স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সাইফুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালত আশিকুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে সাইফুলের জামিন চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী তৈয়বুর রহমান। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করেন।
জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিবারের অনিচ্ছায় ২০১৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আশিকুর এবং সুরভি আক্তার মাহফুজা। তাদের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে মালিবাগের বকশিবাগে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ওইদিনই সাইফুল বাসা থেকে তার ভাতিজাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচর নিয়ে যায়। বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা মাহফুজাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা নুরুল হক খান। লাশ গুম করতে বস্তাবন্দি করে পরদিন দুপুর ১২টার দিকে পালিয়ে যায়। মাহফুজার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা দুপুর দেড়টার দিকে তাকে ডাকতে থাকেন। প্লাস্টিকের বস্তা বাঁধা দেখায় আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করা হয়।