প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
সালমান এফ রহমান। ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ১২ একর ১৬ শতাংশ (প্রায় ৩৬ বিঘা) জমি ক্রোক এবং একটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন এসব সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জন আসামি ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেন। তারা আইএফআইসি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল শাখায় মর্টগেজ দেওয়া সম্পত্তির অস্বাভাবিক ‘অতিমূল্যায়ন’ দেখিয়ে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর সেই অর্থ ‘শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড’ (এসটিএল)-এর চলতি হিসাবে জমা করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, জমাকৃত অর্থ থেকে ২০০ কোটি টাকা এফডিআর করে অবশিষ্ট ৮০০ কোটি টাকা বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বেক্সিমকো গ্রুপ ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নগদে ও বিভিন্ন সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। আত্মসাৎকৃত অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে পাচার (লেয়ারিং) করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকালে আসামিদের ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেডের নামে গাজীপুরে ১২ একর ১৬ শতাংশ স্থাবর সম্পত্তি ও একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ব্যাংক হিসাবের অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর এবং স্থাবর সম্পদের অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন; যা করতে পারলে এই মামলার বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় হতে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাসহ সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। এজন্য এসব সম্পদ হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন সে লক্ষ্যে স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাবটি ফ্রিজ করা একন্ত প্রয়োজন।