প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৩৭ পিএম
প্রবা ফটো
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চত্বরে জড়ো হচ্ছেন শহীদ পরিবারের স্বজনরা। রায় ঘোষণার আগে পুরো এলাকা ভারী নিরাপত্তা থাকলেও স্বজনদের উৎসাহ, আবেগ আর দীর্ঘদিনের বোঝা নামার প্রত্যাশা—সবকিছুই ছাপিয়ে উঠেছে পরিবেশে।
ট্রাইব্যুনালের মূল ফটকের সামনে সকাল ৯টা থেকেই একের পর এক এসে জড়ো হতে থাকেন নিহতদের বাবা-মা, ভাইবোন কিংবা আত্মীয়স্বজন। কারও হাতে ছেলের ছবি, কারও কাঁধে রক্তমাখা ব্যানার; সবার চোখে একই প্রতীক্ষা—আজকের রায় যেন তাদের বহু বছরের ক্ষতকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেয়।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শহীদ মারুফের বাবা কয়েকবারই চোখ মুছতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বাড্ডা এলাকায় গুলিতে মারা যাওয়া মারুফের স্মৃতি তার কণ্ঠে কাঁপন ধরায়। তিনি বলেন, এতদিন পরও আমার ছেলে যে দিন মারা যায়—সেদিনের প্রতিটি মুহূর্ত আমার চোখে ভাসে। আমি এই মামলার সাক্ষী ছিলাম। আজ ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড়িয়ে শুধু চাই, বিচার যেন বাস্তব হয়। আমার ছেলে ফিরে আসবে না, কিন্তু অপরাধীরা যেন আর কারও বাবাকে এভাবে কাঁদতে না পারে।
ট্রাইব্যুনাল চত্বরে থাকা প্রায় সব পরিবারই মনে করেন, আজকের রায় শুধু একটি মামলার সিদ্ধান্ত নয়—এটি তাদের দীর্ঘ আটকে থাকা শোকের বিচার।
রায় শুনতে আসা অনেকের হাতে খাবারের ব্যাগ, পানির বোতল। তারা জানেন, অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে। তবুও তাদের অভিন্ন আশা—আজকের দিনটিই যেন তাদের জীবনে একটি মীমাংসা বয়ে আনে।
এই মামলার তিন আসামি— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
জুলাইয়ের সহিংসতায় অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা থাকলেও নির্বাচিত পাঁচটি অভিযোগের বিচারের ভিত্তিতে আজ রায় ঘোষণা হবে।