প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৩ পিএম
রাজধানীর কলাবাগানের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকাকে হত্যার দায়ে স্বামী রেজাউল করিম রেজাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার(১৩ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয় হয় রেজার। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ২০২০ সালে বিয়ে করেন তারা। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে হোটেলে অবস্থান করতেন।
২০২২ সালের ১২ অগাস্ট জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন পালনের কথা বলে ১০ অগাস্ট পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেলে রেজা তাকে নিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাগবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ওই নারী চিকিসককে হত্যার পর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চট্টগ্রামে চলে যান রেজাউল।
এ ঘটনায় ১১ অগাস্ট জান্নাতুলের বাবা শফিকুল আলম বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার ইন্সপেক্টর আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির রেজাকে অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ২০২৪ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত ৯ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। আজ আদালত রেজাউলের মৃতুদন্ডাদেশ দেন।
জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকা এমবিবিএস পাস করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্ত্রী ও গাইনি বিষয়ে একটি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন।