গাড়ি পোড়ানোর মামলা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৬ পিএম
ফাইল ফটো
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালে পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ দলটির ১৬৭ নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, মিডিয়া উইংয়ের শামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমুনুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মনজু, ঢাকা দক্ষিণের ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনসহ প্রমুখ।
মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মহি উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটিতে মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাস উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে আমরা তাদের স্থায়ী জামিনের আবেদন করেও দীর্ঘদিন সেটা পাইনি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের স্থায়ী জামিন দেন আদালত। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এ মামলার দায় থেকে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। আজ আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ করে অভিযোগের দায় হতে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় দেরিতে হলেও আমরা সুবিচার পেয়েছি।
এ ঘটনায় পল্টন থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. আল আমিনের দায়ের করা মামলা থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর বিএনপি নেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক থেকে নয়া পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসে। অতঃপর নবী উল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপর দুইটি মিছিল একই দিক থেকে আসতে থাকে এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ৮-১০ হাজার জনের একটি মিছিল নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসে। তারা নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শো-ডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পুলিশ তাদেরকে রাস্তার এক লেন ছেড়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য অনুরোধ করলে তারা পুলিশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানানো হয় এবং পুলিশকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তাদের অফিসের মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে ঘোষনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপ ও একটি প্রাইভেট কার পুড়িয়ে আনুমানিক মূল্য ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধণ করে। পুলিশের উপর আক্রমণ করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি কাজে বাধা দেয়। তারা রাস্তায় বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। আসামিদের নিক্ষেপিত ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন।