প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
রাজধানীর শাহবাগ থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানিতে দীপু মনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। আমাদের কি মরে প্রমাণ করতে হবে আমরা অসুস্থ ছিলাম?
তিনি জানান, গত মাসে অসুস্থতার কারণে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তবে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে পরীক্ষার অনুমতি নেওয়া হয়।
দীপু মনি আদালতে আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৬০টির অধিক মামলা রয়েছে। গত এক বছরে মাত্র তিনবার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমাকে আদালতে নেওয়ার দিনই যেন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করা হয়, তখন মামলার বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।
এর আগে দীপু মনি রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তার পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, দীপু মনি দীর্ঘদিন হাজতে রয়েছেন এবং বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। এই মামলার এজাহারে তার নাম ছাড়া কিছুই নেই। শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করছি।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে। আসামি মূলত রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শুনানি শেষে আদালত দীপু মনির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে, লালবাগ থানার শাওন সিকদার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
মনির হত্যা মামলার তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিনে শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
শাওন সিকদারের হত্যা মামলায় জানা যায়, ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ইডেন কলেজের সামনে থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাওন। এ ঘটনায় আত্মীয় পরিচয়ে ২১ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন ইকবাল মজুমদার তৌহিদ। মামলায় ৪০ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে শেখ হাসিনাও রয়েছেন।