প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:১৩ পিএম
বামে হাবিব-মনির ও ডানে সাবেক আইজিপি মামুন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীতে দুটি আলাদা গ্রুপ গড়ে উঠেছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মামলাটি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে।
জবানবন্দিতে মামুন বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর পুলিশ বাহিনীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা সরাসরি শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। প্রায় প্রতিদিন রাতেই এসব কর্মকর্তা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বাসায় বৈঠক করতেন, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলত।
তিনি জানান, এসব বৈঠকে অংশ নিতেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবিপ্রধান হারুনুর রশীদ, এসবির মনিরুল ইসলাম, ঢাকার ডিআইজি নুরুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি বিপ্লব কুমার, এএসপি কাফী, ওসি মাজহার, ফোরকান অপূর্বসহ আরো অনেকে। এর মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
মামুনের ভাষ্য, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এসব কর্মকর্তা চেইন অব কমান্ড মানতেন না। আমি চাইতাম তারা পেশাদারিত্ব বজায় রাখুক, কিন্তু তারা নিজেদের গ্রুপ শক্তিশালী করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে তৈরি হওয়া এই দুটি গ্রুপ শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করত না, বরং নিজেদের ঘনিষ্ঠদের ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়ার জন্যও প্রভাব খাটাত।
জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি র্যাবে দায়িত্ব পালনকালে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলসহ বিভিন্ন গোপন বন্দিশালার অভিজ্ঞতার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।