প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৫ এএম
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, আপিল বিভাগ সাময়িক সমাধানের পথে যেতে চায় না; নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান দিতে চায়। যাতে গণতন্ত্র বারবার বিঘ্নিত না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখতে পারে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন— যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো হয়, তবে সেটি কখন থেকে কার্যকর হবে?
সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। বেঞ্চের নেতৃত্বে আছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এ ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০০৫ সালে আপিলে গেলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর একই বছরের ৩০ জুন সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভুঁইয়া ও জাহরা রহমান।
এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।
প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, আপিল বিভাগ কেবল পুরনো রায় বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিতে চায় না; বরং নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে এমন একটি সমাধান খুঁজতে চায়, যা ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি না করে।