প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩৫ এএম
ফাইল ফটো
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আইনজীবী শিশির মনির আপিল বিভাগে আবেদন করেন রিভিউ শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য।
তিনি আদালতে বলেন, সামনে দীর্ঘ ছুটি শুরু হবে, অথচ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রিভিউ আবেদন তালিকায় এলেও এখনো শুনানি হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা তো চেষ্টা করতে পারি, তবে শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে কি না তা নিশ্চিত নয়।’ তখন শিশির মনির জানান, তারিখ নির্ধারণ করলেই আপাতত কিছুটা সমাধান হবে। পরে আদালত ২৬ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করে।
২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী—অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা—বাতিল করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেই এ রায় ঘোষণা করা হয়।
এরপর গত বছরের অক্টোবরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায়ের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। এছাড়া সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক রিভিউ আবেদন দাখিল করেন। অন্যরা হলেন—তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। একই বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ কয়েকজন ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং বিশেষ বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করে। সেই রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বলা হয়, সংশোধনীটি সংবিধানসম্মত। একইসঙ্গে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল করার অনুমতিও দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগের রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।