জুলাই গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
শেখ হাসিনা/ ফাইল ফটো
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আজ ষষ্ঠ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, সোমবার (১৮ আগস্ট) পঞ্চম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলে। আদালতে সাক্ষ্য দেন শহীদ আস-সাবুরের বাবা মো. এনাব নাজেজ জাকি, শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল এবং প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন।
তাদের জবানবন্দি শেষে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জেরা করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
এই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি হিসেবে আছেন। তবে তিনি নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
এ পর্যন্ত মামলায় ১২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট চারজন সাক্ষ্য দেন— সবজি বিক্রেতা আবদুস সামাদ, মিজান মিয়া, শিক্ষার্থী নাঈম শিকদার এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম। এর আগে ৬ আগস্ট সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী রিনা মুর্মু ও সাংবাদিক একেএম মঈনুল হক।
৪ আগস্ট সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে পঙ্গু হওয়া শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান ও চোখ হারানো দিনমজুর পারভীন। ৩ আগস্ট মামলার সূচনা বক্তব্যের পর প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগপত্রে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট পাঁচটি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে তথ্যসূত্র রয়েছে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। মামলায় সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে মোট ৮১ জনকে।
গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেন।