প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৯ পিএম
ফাইল ফটো
জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কেউই শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যারা ভেবেছিলেন বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে পার পাওয়া যাবে কিংবা প্রতিবিপ্লব ঘটিয়ে বিচার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়া যাবে, তাদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—অপরাধীরা কেউই ছাড় পাবে না। বিচার কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রাজধানীর চানখারপুলে শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, যেসব তরুণ রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার মুক্ত করেছেন, তাদের স্বজনরা এখনো জীবিত আছেন। তাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমেই দেড় হাজারের বেশি প্রাণহানির ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর।
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ। এ ছাড়া তার মা-ও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ১৪ জুলাই এ মামলায় পলাতক চারজনসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক চারজন হলেন—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক। এতে বহু মানুষ আহত হন।