× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর

বিচার বিভাগে সাফল্যের পাশাপাশি আছে সমালোচনাও

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৮ পিএম

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:২৫ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেও আইনি সংস্কারে নেওয়া নানা উদ্যোগের বিবরণ দিয়ে সাফল্যের দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অনেকে নানা ঘাটতি তুলে ধরার পাশাপাশি গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেছেন। কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে বিচারাঙ্গনে বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখছেন। 

গত ৩০ জুলাই সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা তার মন্ত্রণালয়ের এক বছরের কাজের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ সংশোধন করে আইনটিকে ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি, দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন, ফৌজদারি বিধি সংশোধন, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান সংযোজন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি, বিবাহনিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫ এবং জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের আইন ও বিচার বিভাগে পদায়নে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হচ্ছেÑ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ও মব সন্ত্রাস। তবে মিথ্যা মামলা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আইন উপদেষ্টা আরও জানান, পর্যালোচনার পর ১৫ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার আইনের অধীনে ৪০৮টি ‘স্পিচ অফেন্স’-সংক্রান্ত মামলা এবং জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে করা ৭৫২টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারের কারণে কয়েক লাখ রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও স্বাধীন মতের মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছেন। 

এদিকে গত ১ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত এক বছরে কী ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে তার সংক্ষিপ্ত একটি ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেক ধরনের কর্মযজ্ঞ তুলে ধরার পাশাপাশি বলা হয়েছেÑ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের পদসৃজনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা ২০২৫ এবং জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের পদায়নের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাছাড়া তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন, কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম, প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল, বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, আইন মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। 

কী বলছেন আইনজীবীরা

এসব সাফল্যের পাশাপাশি বেশকিছু সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়কে। গত এক বছরে বিচার বিভাগের সংস্কার ও অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগ মাফিয়া চক্রের হাতে আটকা পড়ে আছে। প্রধান বিচারপতি সংস্কার চাচ্ছেন, অন্তর্বর্তী সরকারও সংস্কার চাচ্ছে; কিন্তু সেখানে কোনো সংস্কারের বালাই নেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি বিচার বিভাগ এক অদৃশ্য মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দি। 

বিচার বিভাগে এক বছরে কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেনÑ এমন প্রশ্ন করা হলে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের হয়ে লড়াই করা এক প্রবীণ আইনজীবী কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। 

এদিকে গত ২৩ জুলাই এক গোলটেবিল বৈঠকে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর হতে চললেও দেশের বিচার ব্যবস্থার ভেতরে ভয় এখনও কাটেনি। তার ভাষায়Ñ বাংলাদেশে এখন কোনো ভয়ভীতি নেই, এমনটা কেউই বলতে পারবে না। ভয় বিচার ব্যবস্থার ভেতরেও আছে, বাইরেও আছে। বিচারপতিদের চিন্তা হচ্ছেÑ আমি কী করলে, কে আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে। কোনো একটা গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কিছু একটা নিয়ে জোরে আওয়াজ তুললেই তো শেষ। সে বিচারপতির আর কোনো ভবিষ্যৎই থাকবে না। এমন ভয়ের পরিবেশে কে ঠিকমতো রায় দেবে বলুন? রায় তো দূরের কথা, আদেশই-বা কে দেবে? তিনি বলেন, গত এক বছরে বিচার ব্যবস্থার কাঠামোতে গর্ব করার মতো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। 

বিশেষজ্ঞ মন্তব্য 

বিচার বিভাগে বেশকিছু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের নিম্ন আদালতে পরিবর্তনের বিষয়টি সভা-সেমিনারে ঘুরপাক খেলেও সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। অথচ আগে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারক নিয়োগ হতো। এটি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের সময়েই ছিল। তবে আওয়ামী লীগের সময় ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। প্রধান বিচারপতি নিয়োগেও একই অবস্থা দেখা গেছে। বিগত সরকার থাকলে এনায়েতুর রহিম প্রধান বিচারপতি হতেন। কিন্তু তিনি পাস কোর্সে পড়ালেখা করেছেন, পরবর্তীতে এলএলবি পড়ে বিচারপতি হয়েছেন। আর এখন যাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে তিনি অক্সফোর্ড থেকে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন। সে অর্থে বলা যায়Ñ সরকারের বড় ধরনের অর্জন। এজন্য সরকার প্রশংসা প্রাপ্য। 

তিনি বলেন, বিচারপতিদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে জাতি ন্যায়বিচার পাবে। এসকে সিনহার আমলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নানা ট্যাগ দিয়ে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়োগ দিলেও মাদ্রাসা থেকে পড়ে আসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোককে একটি দলের ট্যাগ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হতো না। ড. নকীব আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিচেনায় কাউকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। এটি বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করছে। এ অবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা বিগত সরকারের সময়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়ানো যায়নি। তাদের হয়রানি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ সরকারের সময়ে তা হয়নি। আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও যেন সেই কাজটি না করেন। তা ছাড়া এক বছরে বিচার বিভাগে যে পরিবর্তন এসেছেÑ তাকে আশা-নিরাশার দোলাচল বলা যায়। পূর্ণাঙ্গ চিত্র দাঁড় করানো যায় না। তবে অল্প সময়ে ভালো কাজ হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা