চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২২ পিএম
ভোলার চরফ্যাশনে সংখ্যালঘু পরিবারের আপন দুই ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তিন আসামিকে ফাঁসির রায় প্রদান করেছেন আদালত।
বুধবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে ভোলার চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসেন এই রায় প্রদান করেন।
আসামিরা হলেনÑ চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের মো.জাফরুল্লাহ ফরাজীর ছেলে মো. বেল্লাল, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সামছুদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন এবং শাহে আলম মুন্সীর ছেলে মো.শরিফুল ইসলাম।
এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন চরফ্যাশন আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এর জন্য তিনি এই মামলার বিচারক এডিশনাল জজ শওকত হোসেনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আরো জানান, সকল সাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা পৈশাচিকভাবে ও নির্মম কায়দায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো.শরীফুল ইসলাম ছাড়া বাকি দুই আসামি মো. বেলাল ও সালাউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী পক্ষের লোকজন রায়ের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ফাঁসির মঞ্চে ঝুলানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিহত দুই ভাই তপন চন্দ্র শীল ও দুলাল চন্দ্র শীল হত্যার প্রায় তিন বছর আগে চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের পৈতৃক ৫৬ শতাংশ জমি বিক্রি করে ভারত চলে যান। ওই জমি ২০ লাখ টাকায় কিনে নেন আছলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বেলাল ও তার শ্বশুর আবু মাঝি। তবে তারা মাত্র তিন লাখ টাকা বায়না দিয়ে দলিল করে নেন।
বাকি টাকা নেওয়ার জন্য তপন ও দুলাল ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। তখন দুই ভাইকে ঘুরাতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন বেলাল। ওই দুই ভাইকে ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে টাকা দেওয়ার কথা বলে চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরীর ব্রিজে কাছে নির্জন বাগানে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাদের মাথা সেপ্টি ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।