× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হত্যাচেষ্টা মামলায় জবির সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারা কারাগারে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৯:১২ পিএম

হত্যাচেষ্টা মামলায় জবির সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারা কারাগারে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস এম আনোয়ারা বেগমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক একেএম হাসান মাহমুদুল কবীর কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। জামিন আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম।

অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, আমার মক্কেল ২০২১ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নন। তিনিসহ তার দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা মিটিংয়ের জন্য তাকে ডাকা হয়। সেখান থেকে আসার পথে বিকালে তাকে গ্রেপ্তার করে। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে সূত্রাপুর থানা পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার অনুসারীরা অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমকে দেখতে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তাকে ঘিরে ধরেন। এরপর সূত্রাপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে তাকে পুলিশ আটক করে। আনোয়ারা বেগম একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা চোখে গুলিবিদ্ধ হন। পরে গত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের ৯৪ জনসহ মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সুজন মোল্লা। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বাকি উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আরাফাত রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৯ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে রওনা হয়। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় মিছিলটি রায় সাহেব বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের প্ররোচনায় ছাত্রলীগসহ ১০০-১৫০ জন আসামি তাদের ওপর হামলা করে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারি সুজন মোল্লার বাম চোখে গুলির চারটি স্প্রিন্টার লাগে এবং কয়েকটি গুলি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করায় তাৎক্ষণিক রক্তাক্ত হন। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ছাত্রদল নেতা সুজন মোল্লা বলেন, এদের মতো দলকানা শিক্ষকদের জন্য স্বৈরাচারী আমলে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। উনি বলতেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে, তারা রাজাকার। আর যেহেতু ছাত্রদল-শিবির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই এরা রাজাকার। এদের গুলি করে মারা উচিৎ। তিনি পিএসসির সদস্য থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া কাউকে বিসিএসের জন্য উত্তীর্ণ করতেন না। উনার মতো আওয়ামী দোসরের সঠিক বিচার দাবি করছি। কারণ উনারা ছাত্রলীগের মাফিয়াদের পুলিশ প্রশাসনে নিযুক্ত করেছেন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে টাকা দিয়ে ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করিয়েছেন।

এদিকে অধ্যাপক আনোয়ারা বেগনকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, তিনি যে ক্যাম্পাসে আসবেন আমরা অবগত ছিলাম না। তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবহিত নয়। শুনেছি পুলিশ উনাকে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মেজবাহ উল আজম সওদাগর বলেন, আপগ্রেডেশন বোর্ডের নমিনি নির্ধারণ করেন রাষ্ট্রপতি। তাকে নমিনি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি দিলেও এখনো পাস হয়নি। তাকে বিভাগ থেকে ডাকা হয়নি। বোর্ড মিটিংয়ে ডাকার কোনো এখতিয়ার বিভাগের নেই। তাকে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে ডাকা হয়েছে। সেজন্য হয়তো উনি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি এস্ময় ক্যাম্পাসে ছিলাম না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা