পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:০৩ পিএম
পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আল আমিন নামে এক ইজিবাইক চালককে হত্যার পর লাশ গুমের মামলার প্রধান আসামি সাবেক রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মামলার শুনানি শেষে পঞ্চগড়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক নাহিদা আকতার জুলিয়েট এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম সুজনকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আদম সুফি, জিপি আব্দুল বারী, এপিপি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, এপিপি মোস্তাফিজুর রহমান, আইনজীবী হাবীব আল আমিন ফেরদৌসসহ অন্তত ১০ জন অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, আসামীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মির্জা সারোয়ার হোসেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি আমিনুর রহমান, আজিজার রহমান আজু, আবু বক্কর সিদ্দিক, আলী আসমান বিপুলসহ ১০ থেকে ১৫ জন অংশ নেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, এজহারনামীয় আসামি নুরুল ইসলাম সুজনের রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ঘটনার সময় সুজন সাহেব মোবাইল ফোনে গুম ও পরে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা শুনাননিতে বলেছি বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সেই রেকর্ড বের করা সম্ভব। মামলার বাদি আমাদের একটি এফিডেভিট দিয়েছেন যাতে তিনি বলেছেন, সুজনকে তিনি ব্যাক্তিগতভাবে চেনেন না। তার সাথে কোনো শত্রুতা নেই বলে উল্লেখ করেছেন। দীর্ঘ শুনানিতে আমরা তার জামিনের আবেদন করেছি। কিন্তু আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আশা করি তিনি ন্যায় বিচার পাবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আদম সুফি বলেন, এটি রহস্যাবৃত। ভিকটিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রহস্য উদঘাটনের জন্য এই মামলায় আসামির রিমান্ড প্রয়োজন ছিল। এটি আদালত অনুধাবন করেছেন। বিধায় আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আর আসামিপক্ষ যে এফিডেভিট দেখিয়েছে আদালতে তাতে কোনো সাক্ষীর স্বাক্ষর নেই। এতে প্রতিয়মান হয় যে সেটি সাজানো। আগামী দিনে এই মামলায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।
এর আগে, মামলায় হাজির করার জন্য নুরুল ইসলাম সুজনকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ৪ আগষ্ট থেকে গুম হয় আল আমিন। এ ঘটনায় আল আমিনের বাবা মনু মিয়া গত ১০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক রেলমন্ত্রী সুজনসহ ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।