আইনজীবী সাইফুল হত্যা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:২৭ পিএম
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম কাজী শরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া দুই আসামি হলেন- প্রধান আসামী চন্দন দাস (৩৫) ও রিপন দাস (২৭)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় আসামি চন্দন দাস ও রিপন দাসকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে চন্দন দাসের সাতদিন ও রিপন দাসের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চন্দন দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আরেক আসামি রিপন দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপন এজাহারনামীয় আসামি না হলেও ভিডিও ফুটেজে দা হাতে দেখে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
গত ২৯ নভেম্বর অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অন্তত ১৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলা দায়ের করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দীন। এই মামলায় গত ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে ৯ জন আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
গত ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজনভ্যানে তোলা হলে তার অনুসারীরা প্রিজনভ্যান আটকে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হলের গলিতে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের টি-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত চন্দন দাস ছুরি হাতে সাইফুলকে কোপ দিচ্ছিলেন। এ সময় চন্দনের মাথায় হেলমেট পরিহিত ছিল।
এছাড়া রিপন দাসও অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যায় জড়িত ছিল। ভিডিও ফুটেজে সে নীল রঙের গেঞ্জি হাতে বটি নিয়ে তাকে দেখা গেছে, বিধায় পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।