× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তারেক-বাবরসহ সবাই খালাস

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৩ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

উচ্চ আদালতে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানির পর পাল্টে গেল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সংঘটিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায়। ভয়াবহ ও নৃশংস এ হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ডের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন) ওপর হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। 

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আগে বিচারিক আদালত বেআইনিভাবে রায় দিয়েছিল।’ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘মুফতি আব্দুল হান্নানের জবানবন্দির ভিত্তিতে যে সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে এ মামলার বিচার শুরু হয়েছিল, সেই অভিযোগপত্রই ছিল অবৈধ।’ এ ছাড়া কোনো সাক্ষী কোনো আসামিকে গ্রেনেড ছুড়তে দেখেননি, তাই শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যায় না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

উচ্চ আদালত সূত্র জানায়, আসামিদের আপিল মঞ্জুর করার পাশাপাশি মৃত্যদণ্ড কার্যকরের আবেদন (ডেথ রেফারেন্স) খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। জজ আদালতে দণ্ডিত ৪৯ আসামির মধ্যে যারা আপিল করেছেন, তাদের পাশাপাশি যারা করেননিÑ সবাইকেই এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

রায় নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম সরকার গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আপিলে আমরা মামলাগুলোর বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার আবেদন জানাব। রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই আপিল করবে।’

এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলায় কোনো আসামিকে সাজা দেওয়ার বিধান নেই। কিন্তু ২০১৮ সালে এ মামলায় এমন করা হয়েছে; যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। গত ৪০০ বছরের ইতিহাসের এ রকম কোনো নজির নেই। আমরা সেটি আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত আমাদের এ বিষয়টি আমলে নিয়েছেন এবং আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেনÑডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম সরকার। আসামিপক্ষে ছিলেনÑজ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এ ছাড়া সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, মো. মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন, ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী, আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

রায় নিয়ে আইনজীবীদের বক্তব্য

এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান অভিমত দেন, ‘এ মামলার দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয়েছে, সেটি আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ দ্বিতীয় অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া হয়নি। সরাসরি জজ আদালতে দেওয়া। সেজন্য এ অভিযোগপত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গৃহীত হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কে গ্রেনেড ফাটাল, তা নিয়ে কারও সাক্ষ্য নেই বা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। এর হদিস পাওয়া যায়নি।’ 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিষয়ে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘আমি এটি উল্লেখ করেছি। যদিও তার কোনো আপিল নেই। কিন্তু আদালত যদি মনে করেন যে, এ মামলার কোনো আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়নি বা দায়সারা গোছের চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তা হলে মামলা প্রমাণ না হলে, খালাস পাওয়ার যোগ্য হলে আদালত খালাস দিতে পারেন। এই রায়ে সেটারই প্রতিফলন ঘটেছে। ভারত, পাকিস্তানসহ আমাদের সুপ্রিম কোর্টেও এর নজির আছে।’

সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরের মতে, ‘মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় জবানবন্দির ভিত্তিতে অধিকতর যে তদন্ত হয়েছে, সেটির আইনি ভিত্তি নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, এ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রায়ে নিম্ন আদালতের বিচার অবৈধ ঘোষণা করে এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।’

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘টিএফআই সেলে যাদের রাখা হয়েছিল, যাদের টর্চার করা হয়েছে, তারা একজন বলেছে আরেকজনকে দেখেছে, শুনেছে; কিন্তু কী কথা হয়েছে, কী কন্সপিরিসি হয়েছে তার কোনো উত্তর দিতে পারেনি। লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, কায়কোবাদসহ যাদের পরবর্তী চার্জশিটে আনা হয়েছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মূল কারণ রাজনৈতিক বিবেচনা। প্রকৃত আসামি তারা খুঁজতে যায়নি।’ 

তিনি বলেন, ‘আজ রায়ের আগে আদালতের সামনে দুটি মূল প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়। মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় কনফেশনের ওপর ভিত্তি করে কোনো সাজা দেওয়া যাবে কিনা। আদালত বলেছে, নো। দ্বিতীয় কনফেশনের ওপর ভিত্তি করে কাউকে কোনো সাজা দেওয়া যাবে না। আরেকটি হলোÑ পরবর্তী সময়ে যে তদন্ত হয়েছে, সেটা গ্রহণের আদালত কোনটা হবে। এই আমলে গ্রহণ করার আদালত হয়েছে ট্রায়াল কোর্ট। আইনে আছে আমলে গ্রহণ করবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এখন দেখা গিয়েছে, আমলি আদালত আমলে গ্রহণ না করে যা বিচারিক আদালত গ্রহণ করেছে।

হাইকোর্ট বলেছেন, এটা বাংলাদেশের সকল সিদ্ধান্তের আলোকে অবৈধ হয়েছে এবং এই জন্য এই ট্রায়ালটাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই, সকল বিবেচনায় ২১ আগস্টে যা হয়েছে তার সঠিক বিচার হোক। কিন্তু যাকে ইচ্ছা তাকে আসামি করা যাবে না। রাজনৈতিক বিবেচনায় কারও ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে যদি বিচার করা হয়, তাহলে তার শেষ পরিণতি ভালো হয় না। এই রায় থেকেই এর শিক্ষা নিতে হবে।’

গত ২১ নভেম্বর শুনানি শেষে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য ২১ আগস্টের ঘটনায় করা মামলা দুটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় অপর ১১ আসামিকে। একই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার বিচারিক আদালতের রায় প্রয়োজনীয় নথিসহ হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়। পাশাপাশি কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন। গত ৩১ অক্টোবর আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়।

ঘটনা ও বিচার প্রক্রিয়া

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের সে সময়কার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ দলটির তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২। এই ৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।

২০১৮ সালের সেই রায়ে যারা অভিযুক্ত ছিলেন

এ ঘটনার মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দেওয়া বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (কারাগারে মৃত), কাশ্মিরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জ্বল, এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (কারাগারে মারা যান) ও হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করেন আদালত।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা ছিলেনÑতারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ (কারাগারে মারা যান), মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু। সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইর মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ৪৯ জনের মধ্যে রায় দেওয়ার সময় ৩১ জন কারাগারে ছিলেন।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাদের সবাই বেকসুর খালাস পাওয়ায় গতকাল বিকালে রাজধানীতে আনন্দ মিছিল বের করে মহানগর বিএনপিসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া এ মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আনন্দ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লন্ডন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই রায়ে প্রমাণ হলো, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই মামলায় তারেক রহমানকে অভিযুক্ত করেছিল। এ রায় থেকে এটাও প্রমাণিত হলোÑ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আনা সব মামলাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক।’ 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল বিদেশি শক্তির একটি পরিকল্পিত হামলা। এই হামলায় কখনোই বিএনপি যুক্ত ছিল না। একটা বিদেশি শক্তি এই অপকর্ম করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসাতে চেয়েছিল।’ 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে জোর করে তারেক রহমানসহ বিএনপির অন্য নেতাদের সাজা দেবে, শাস্তি দেবেÑ এটাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। আজ ন্যায়বিচার হয়েছে, হাইকোর্ট যথার্থ বিচার করেছেন।

বাবরের স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছি। এ কারণে মহান আল্লাহতায়ালার প্রতি শুকরিয়া জানাই। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় এতদিন অপেক্ষা করা যে কী কষ্টÑ তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবে। আদালত আমাদের ন্যায়বিচার দিয়েছেন।’

লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়। তার নামে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারেই রয়েছেন। বেশ কয়েকটি মামলা থেকে ইতোমধ্যে তিনি খালাস পেলেও বাকিগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তিনি বের হতে পারবেন না। 

তারেক রহমান কি এখন দেশে ফিরবেন?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গতকাল এ ব্যাপারে বলেন, ‘তিনি আমাদের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন। এ জন্যই আল্লাহতায়ালা তাকে সুস্থ করেছেন এবং খালাস দিয়েছেন।

গতকাল রায় ঘোষণার পরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমানের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানকে ২১ আগস্টের মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা আছে। সেসব মামলার শুনানি শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করছি, ওই মামলাগুলোতেও একই ধরনের ফল পাব। তখন আর তার দেশে ফিরতে কোনো সমস্যা থাকবে না।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা