চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৮ পিএম
দুই হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে জনতা ব্যাংক। রবিবার (১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৯শ ৬৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম শাহেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিজেদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের নামে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় জনতা ব্যাংকের চৌমুহনী জীবন বিমা শাখা এ মামলাটি দায়ের করেছে। মামলায় ১০ ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তাদের মালিকানাধীন ১৪ প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন- এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের চেয়ারম্যান আবদুছ ছবুর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলম, পরিচালক আব্দুল্লাহ হাছান, আবদুস সামাদ (লাবু), এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান গণি, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের পরিচালক শাহানা ফেরদাউস, মিশকাত আহমেদ, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের পরিচালক ফারজানা পারভিন ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলম।
বাদী পক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুনানি শেষে আদালত বিবাদী সাইফুল আলমের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার এবং তার ভাই আব্দুস সামাদ লাবুর মালিকানাধীন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সব শেয়ার ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঋণ প্রদানে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা দুদককে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, বিবাদীগণ বাদী ব্যাংক থেকে এলসি লিমিট এবং তদঅধীন এলটিআর সুবিধার জন্য আবেদন করেন। বিবাদীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ব্যাংকের ১৬৫ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিবাদীর অনুকূলে ২৭৭ কোটি এলসি লিমিট ঋণ এবং ওই এলসির শিপিং দলিলাদি ছাড়করণের জন্য ২০৮ কোটি টাকা এলটিআর লিমিট মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের মঞ্জুর করা এই ঋণ ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে ভোগ করার পর ২০১৭ সালে বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এলসি লিমিট ২৭৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ কোটি এবং এলটি আর লিমিট ২০৮ কোটি এবং সিসি (হাইপো) ১৩০ কোটি টাকার বাদী ব্যাংকের ওই বছরের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৯৪ তম সভায় অনুমোদন দেয়। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আরেক দফায় বাড়িয়ে এলসি লিমিট ৬৫০ কোটি, এলটিআর ২০৮ কোটি এবং সিসি লিমিট ২৩০ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সময় ৬৫০ কোটি টাকার পূর্ণ ঋণাঙ্কের উপর মটগেজ সম্পাদনের শর্ত প্রদান করেন। একই সময় আরোপযোগ্য সুদ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৩ সালের বকেয়া সুদ একই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
পাশাপাশি ২০২৪ সাল থেকে প্রতি ত্রৈমাসিক সুদ পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সময় মতো সুদ পরিশোধ না করায় ওই ঋণ এখন সুদে-আসলে ১ হাজার ৯শ ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ঋণ পুন তফশিলের জন্য আবেদন করে বিবাদীরা। কিন্তু জনতা ব্যাংকের কার্যালয় থেকে গত ৯ অক্টোবর জীবন বীমা শাখাকে জানানো হয়, বিবাদী বিআরডিপি সার্কুলার ০১/২২ এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৯৯১ এর ২৬ (খ) (১) ধারার বিধান লংঘন হবে বিধায় বর্ণিত ঋণ সুবিধা একক ঋণসীমা অতিক্রমের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংক নাকচ করেন। ফলে নবায়ন বাতিল হয়। পরে এই ঘটনায় খেলাপি ঋণ আদায়ে আজ আদালতে মামলা দায়ের করেন জনতা ব্যাংক।