প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:৫৪ এএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১১:১৫ এএম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), সিপিবি, জাসদ, এলডিপিসহ ১১টি দলকে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি রিট আবেদনে বিগত তিনটি নির্বাচন- দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই নির্বাচনগুলোতে যারা সংসদ সদস্য হয়ে বেতন-ভাতাসহ নানা সুবিধা ভোগ করেছেন, তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), সংগঠনের সমন্বয়ক এবং জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম ও অন্যতম সমন্বয়ক মো. হাসিবুল ইসলাম বাদী হয়ে পৃথক রিট দুটি দায়ের করেন। এ বিষয়ে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে রিটে। ১১টি দলের বিষয়ে করা রিটে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), গণতন্ত্রী দল, সাম্যবাদী দল মার্ক্সিস্ট-লেলিনিস্ট (বড়ুয়া) ও সোসিওলিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশকেও (বাসদ) বিবাদী করা হয়েছে।
তবে রিটকারীদের পক্ষে কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করায় এ নিয়ে বিভ্রান্তিও দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে রিট হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সে বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন রিটকারীদের অন্যতম সারজিস আলম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা বলেছেন, রিটের বিষয় কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) করে কাল-পরশুর মধ্যে তারা বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসবেন। তার মানে, রিটের বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। যদিও সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রিট দুটি ২৮৩ ও ২৮৪ নম্বর ক্রমিকে ছিল। বিকালে ফলাফলের ঘরে দেখা যায়, রিট দুটির বিষয়ে ‘আউট’ লেখা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, রিট দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য মঙ্গলবার হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
সোমবার বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যৌথ প্রতিনিধিদল। সেখানে রিটকারী সারজিস আলমও ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সেখানে রিট আবেদনকারী তিনজনের একজন সারজিস আলমের কাছে সাংবাদিকরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর যেভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, তা আমরা করতে চাই না। আমরা এমনভাবে রিট করব যে পুরো বাংলাদেশের মানুষ সব সময় তার সাক্ষী দেবে। ওই রিটের এডিট থেকে শুরু করে যা কিছু রয়েছে, তা কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) করে হয়তো আগামীকাল বা সর্বোচ্চ হলে পরশু দিনের মধ্যে আমরা বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসব।’
সোমবার হাইকোর্টে দায়ের করা প্রথম রিট আবেদনটিতে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা, বেআইনি প্রক্রিয়ায় অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দায়ে এসব দলের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দলগুলোকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনের বিষয়টি সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এ নিয়ে নানা কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এরপর ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম লেখেন, ‘দুটি রিট করেছি। ১. আওয়ামী লীগের বিগত তিনটি নির্বাচনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত সুবিধাগুলো কেন ফিরিয়ে দিবে না সে বিষয়ে প্রথম রিট। ২. এই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত কেন তাদের পলিটিক্যাল সকল একটিভিটি থেকে বিরত রাখা হবে না সে বিষয়ে দ্বিতীয় রিট। দল হিসেবে নিষিদ্ধ কিংবা নিবন্ধন নিষিদ্ধের কোনো কথা রিটে নেই।’ আরেক রিটকারী আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) দুপুরে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই লেখা পোস্ট করেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক প্রকার গুজব ও তথ্যের বিভ্রান্তির জন্য এই পোস্ট দিতে হয়েছে। গুজব ও তথ্যের বিভ্রান্তি যখন আসছিল, তখন আমরা কী চিন্তা করছি, তা তুলে ধরার জন্য পোস্ট দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে এসেছে নিষিদ্ধের কথা। আমাদের রিটের কোনো সিঙ্গেল লাইনে কোনো একটি দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন বাতিলের কথা নেই। এ বিষয়ে মিথ্যা অপপ্রচার আটকানোর জন্য রিট করা এবং কী বিষয় হতে পারে, সে বিষয়টি আমরা সামনে নিয়ে এসেছি।’
রিটকারীদের আইনজীবী আহসানুল করিমও সাংবাদিকদের রিট দায়েরের তথ্য সোমবার নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘রিটে সরাসরি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ চাওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।’
আহসানুল করিম জানান, মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে।
রিটে নিষিদ্ধ চাওয়া দলগুলো হলো- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (জেপি, মঞ্জু), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), সাম্যবাদী দল (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী, দিলীপ বড়ুয়া) এবং সোসিওলিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (বাসদ)।
এদিকে, বিকালে এবি পার্টির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকরা বিষয়টি সারজিসের কাছে জানতে চান। এ সময় সারজিস জানান, এখনও কোনো রিট হয়নি। রিটের খসড়া তৈরি করা হয়েছে মাত্র। রিটের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি জানিয়ে সারজিস জানান, প্রক্রিয়া শেষে সমন্বয়করা গণমাধ্যমের সামনে আসবেন। সারজিস বলেন, ‘আমাদের রিটের কোথাও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন বাতিলের কথা নেই।’
সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা একটি রিটের প্রসেস করছিলাম, সেখানে আওয়ামী লীগ ১৬ বছরে যেকোনো দলকে নষ্ট করতে যা যা করেছে, আমরা সেরকম কোনো কিছুর ভিত্তিতে যাব না। তারা বিগত যে তিনটি নির্বাচন করেছে, দেশের সব মানুষ সাক্ষ্য দেবে- এগুলো ছিল প্রহসনের। তাহলে এগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা উচিত। নির্বাচনের পর যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে সেগুলোও অবৈধ।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সমন্বয়ক আরও বলেন, ‘আমরা একটি প্রাথমিক ড্রাফট করেছি। এই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। কাল বা পরশু প্রক্রিয়া শেষ করে মিডিয়ার সামনে আমরা বলতাম। মিডিয়াতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ চাওয়া হয়েছে। আমি বা হাসনাত আমরা কেউই এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলিনি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা হয়তো কারও মাধ্যমে সাইডটক হয়ে মিডিয়ায় গিয়েছে।’
যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে গণমাধ্যমকে যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো আগামীকাল (মঙ্গলবার) রিটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আমরা ভাবছি, দুটি বিষয় মিলিয়ে একটি রিট করা যায় কিনা। আইনজীবীদের সাথেও কথা বলেছি। রিট আমরা অবশ্যই করব। কাল বা পরশু আমরা জানিয়ে দেব। মূল কথা জানালেই সব বিভ্রান্তি দূর হবে।’
রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের রিটে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
১১টি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা। নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে দায়ের করা রিটের তালিকায় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নাম দেখে বিস্মিত দলের নেতারা। একই ভাবে বিস্মিত কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপির নেতারা।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমাদের দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে রিট আবেদনের বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিক কিছু জানি না। তবে পত্রিকায় দেখেছি। কী কারণে, কোন যুক্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে রিট করা হয়েছে, যারা রিট করেছেন তারা বলতে পারবেন। তবে আমি বলব, ব্রিটিশ আমল থেকে আমাদের পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ সফল হতে পারেনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক বলেন, যে সমন্বয়করা স্বৈরাচার হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে ডক্টর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির অবদান সম্পর্কে জানে না, তারা আর যাই হোক মেধাবী ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি হতে পারে না। বিগত ১৬ বছরে হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা দল এলডিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে হাইকোর্টে সমন্বয়কদের রিট করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট থেকে এলডিপির নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, তালিকাটি দেখেছি। তবে এই বাসদ আমাদের দল বলে মনে হয় না। কারণ বাসদ নামে চারটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মধ্যে আমাদের দল থেকে ভাগ হয়ে যাওয়া রেজাউর রশীদ খানের নেতৃত্বে একটি বাসদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা তো সমাধান নয়। অতীতেও অনেক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু দলগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বরং এসব দলের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়ে। তাই সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কারণে একটি দল ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে তার উপকরণ, উপাদান ও ভিত্তিগুলোকে নির্মূল করতে হবে। যারা ব্যক্তিগতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের কার্যক্রমের বিচার হওয়া দরকার।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই আন্দোলনে জাতীয় পার্টির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে, জেল খাটতে হয়েছে। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই যখন সুযোগ পেয়েছে জাতীয় পার্টির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। এখন বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। এটা দুঃখজনক। দল ছোট হলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা সহজ হয়। আমরা যতদূর জানি, যখন একটা দল সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকে, তখন তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। জাতীয় পার্টি তো কোনোকালেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়নি। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হিসেবে আমরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি মাত্র।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ এবং অন্যান্য
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ২৩ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে। ওই আল্টিমেটামের পরই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে সরকার।
গত ১৫ বছর দেশ শাসন করা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধের দাবি রয়েছে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো কোনো পক্ষের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে ‘নির্বিচারে হত্যার’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল এবং ক্ষমতাচ্যুত দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত আগস্ট মাসে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। ‘সারডা সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আরিফুর ওই আবেদন করেছিলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সেটি খারিজ করে দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সে সময় শুনানিতে বলেছিলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের। সংবিধানে রাজনৈতিক দল পরিচালনার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা খর্ব করবে না সরকার। বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের অনেক অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে মানুষ। অনেক গুম-খুন হয়েছে। সেগুলোর বিচারের জন্য আইন ও আদালত রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের অনেক ভালো নেতাকর্মীও রয়েছেন, তারা দলের মতাদর্শ ধারণ করেন। এজন্য দল নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। তাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার ইচ্ছা এ সরকারের নেই।’
আর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি না, যদি না কোনো জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় তারা লিপ্ত থাকে।
সত্যিকার অর্থে যদি কোনো রাজনৈতিক দল জঙ্গিবাদী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকে, তাহলে প্রচণ্ড সততার সঙ্গে তদন্ত করে এমন কিছু (নিষিদ্ধ) করা যেতে পারে।’
আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বর্বরতম ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ। এই কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগত দায় থাকতে পারে, নেতাদের সামষ্টিক দায় থাকতে পারে, কিন্তু দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না।’
এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন আগস্টে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের পর ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।
কোনো দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি- জানাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইং। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ছাত্রলীগকে সরকার নিষিদ্ধ করেছে। সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারে এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ ১১টি দলকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে অনুমতি না দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বিষয়টিকে সরকার সমর্থন করে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপ প্রেস সচিব বলেন, এটি যেহেতু বিচারাধীন বিষয়, তাই এ বিষয়ে আমরা মন্তব্য করব না।