× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিচারপতি অপসারণ সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলেই

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১০:০৮ এএম

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৫২ এএম

বিচারপতি অপসারণ সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলেই

সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের রিভিউ নিষ্পত্তি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংবিধানের এ-সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদের পুরোটাই পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফলে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ফিরল সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে। রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের ‘দোসর’ বিচারকদেরও অপসারণের দাবি তোলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যে গত সপ্তাহে ১২ জন বিচারককে আপাতত বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন প্রধান বিচারপতি। তখনই ষোড়শ সংশোধনী মামলা ফের আলোচনায় আসে। ষোড়শ সংশোধনী মামলার রিভিউ আবেদনটি রবিবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রাখা হয়। 

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে আদালতের অনুমতি নিয়ে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল জাব্বার ভূইয়া, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি মোহাম্মদ জেনারেল আরশাদুর রউফ। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের ফলে কোনো বিচারপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে বা পেশাগত অসদাচরণের কোনো অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ থেকে ৮ পর্যন্ত বিধান ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছিল। এগুলো পুনর্বহাল করেছেন আপিল বিভাগ।’

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এলে সে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ওই বিচারপতিকে অপসারণ বা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।’ বেঞ্চ না দেওয়া ১২ জন বিচারপতির ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আগেও নেওয়া যেত। কারণ আপিল খারিজের পর রিভিউ হলেও স্থগিতাদেশ ছিল না। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে ক্ষমতা তখনও ছিল।’

এই রায় ঐতিহাসিক বলে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ের ফলে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল বহাল রইল। বিচারপতি পদত্যাগ করলে সেটি এখন থেকে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কউন্সিলের নিয়মের মধ্যে পড়বে।’

বিচারকদের নিয়ে ছাত্র-জনতার ক্ষোভ নিষ্পত্তির পথ খুলল : আইন উপদেষ্টা 

রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহালের বিষয়টি ইতিবাচক উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘এর ফলে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে এখন পুরোপুরি অপারেশনাল করা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সময়ে এটার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের হাইকোর্টে কিছু বিচারক আছেন, উনাদের ব্যাপারে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। উনারা ফ্যাসিস্ট শক্তির নিপীড়ক যন্ত্রে পরিণত হয়েছিলেন। কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। এজন্য ছাত্র-জনতার ক্ষোভ রয়েছে। এখন এসব ক্ষোভ সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার একটা রাস্তা বের হয়েছে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘বর্তমানে উচ্চ আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। উচ্চ আদালত তাদের মতো করে ব্যবস্থা নেবেন। এর ফলে ছাত্র-জনতা তাদের অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য একটা উপযুক্ত ফোরাম পেল। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই।’ তিনি বলেন, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল যখন ছিল না, তখন উচ্চ আদালতের বিচারকদের জবাবদিহির ফোরাম ছিল না। এই জবাবদিহির ইচ্ছাও উচ্চ আদালতের প্রশাসনের মধ্যে ছিল না।’ 

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। তারেক রহমানকে বাংলাদেশে কথাই বলতে দেবে না, এরকম একটা বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার রায় হয়েছে। আরও অনেক রায় হয়েছে। অনেক মানুষ আদালতে গিয়ে মানবাধিকার রক্ষা করার সুযোগ পায়নি। এখন সদিচ্ছা বাস্তবায়নের ফোরামও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। এজন্য এটাকে ইতিবাচক বলে মনে করি।’

প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কাছে। মার্শাল ল প্রক্লেমেশনে করা পঞ্চম সংশোধনীতে এক্ষেত্রে ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনীতে সেটা বাতিল করে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয় সংসদকে। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনের রুল শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। একই বছরের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতিতে আপিল খারিজ করে রায় দেন। ফলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ১ আগস্ট। বিচারপতি সিনহা তার লেখা রায়ে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন। এ সময় আওয়ামী লীগসহ আইনজীবীদের একাংশ প্রধান বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের দাবি তোলেন। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল : যা আছে সংবিধানে 

ষোড়শ সংশোধনীর আগে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ছয়টি ধারা পুনর্বহাল হওয়ায় বিচারক অপসারণ প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তির জন্য ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সময় করা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের বিধান ফিরে এসেছে। ওই অনুচ্ছেদের পুরোনো ৩ নম্বর ধারায় বলা আছে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারককে নিয়ে। কাউন্সিলের কোনো সদস্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। কাউন্সিলের দায়িত্ব সম্পর্কে ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, বিচারকদের জন্য পালনীয় আচরণবিধি কাউন্সিল নির্ধারণ করবে এবং বিচারকের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ পেলে তদন্ত করবে।

৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সূত্র থেকে রাষ্ট্রপতি যদি জানতে পারেন যে, কোনো বিচারক শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বা তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে, তাহলে রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলকে বিষয়টি তদন্ত করে ফলাফল জানানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তদন্ত করার পর কাউন্সিল যদি সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা তার অসমর্থ্যতার প্রমাণ পায় এবং বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানায়, তাহলে ৬ নম্বর দফা অনুসারে রাষ্ট্রপতি ওই বিচারককে অপসারণের আদেশ দেবেন। ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, তদন্তের ক্ষেত্রে কাউন্সিলই নিজের কর্মপদ্ধতি ঠিক করবে এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো ক্ষমতা ধারণ করবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা