গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২ ১৮:২১ পিএম
গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জেলার প্রথম চাকরি মেলা। শহরের পৌর পার্কে বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) কর্মসংস্থান বিষয়ক চাকরি মেলাটি আয়োজিত হয়। বেসরকারি সংগঠন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এই মেলার আয়োজন করে।
এ উপলক্ষে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি থেকে এক শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে লাইব্রেরি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক নেশারুল হক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবদুর রহিমসহ অনেকে।
মেলায় আরএফএল, সিঙ্গার, ডাচ বাংলা প্যাক, ওয়ালটন, রিক্রুটিং এজেন্সি আল জহুর ইন্টারন্যাশনাল, টিটিসি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রসহ ১০টি চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ক আফতাব হোসেন মেলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে জানান, ‘আমাদের এই অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের কারিগরি বিষয়ে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। চাকরি পেতে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে, চাকরিপ্রত্যাশীদের এ বিষয়ে তেমন কোনো ধারণা নেই। অনেক প্রার্থী সিভিই তৈরি করতে পারে না। সিভিতে কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্তি থাকলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকবে ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা নেই। অনেকে জানে না, কোথায় গেলে চাকরি পাওয়া যাবে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা মূলত চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য এই মেলা আয়োজন করেছি।’
চাকরি মেলায় জেলার তিন শতাধিক বেকার ও প্রশিক্ষিত নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের জন্য জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে ১০০টি সিভি বাছাই করে। এদের মধ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে ৪০ জন প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন।
মেলায় আগত চাকরিপ্রত্যাশী নাজমুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমরা সাধারণত দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারভিউ দিতে যাই। তারপর ভাগ্যে থাকলে চাকরি হয়। চাকরি মেলায় এসে আমরা অনেক তথ্য জানতে পেরেছি। সহজেই চাকরি পাওয়ার বিভিন্ন কৌশলও শিখতে পারলাম।’
নাজনীন আকতার মাস্টার্স পাস করে ৩ বছর যাবৎ চাকরি খুঁজছেন। কিন্তু যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি মিলছিল না তার। তিনি জানান, ‘এখানে এসে জানলাম কর্মসংস্থানের জন্য জনশক্তি অফিস, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহজে চাকরি পাওয়া যায়।’
অষ্টম শ্রেণি পাসের পর বিয়ে হয়েছে আফরোজা বেগমের। অভাবের সংসার। তাই নিজের কিছু একটা করা দরকার বলে চাকরি মেলায় এসেছেন। এখানে এসে জানতে পারলেন কোথায় প্রশিক্ষণ ও কী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
প্রবা/এইচএম/এমজে