× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাইওয়ে পুলিশে ৭০০ জনবল নিয়োগ

সুজন কৈরী

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১০:১৯ এএম

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১০:১৯ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বাস, ট্রেন ও নৌপথে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষের পথে। তবে প্রতিবছরের মতো এবারও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে যানজট ও মহাসড়কে ছিনতাই এবং ডাকাতির ঘটনা যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। গত কিছুদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী বাসে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীবেশে বাসে উঠে ডাকাতি করার ঘটনাও ঘটছে। ফলে দূরপথে নিরাপদ যাত্রা নিয়ে জনমনে যেমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে তেমনি রয়েছে যানজটের শঙ্কাও।

তবে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে জানিয়ে বলছে, ইতোমধ্যে পুলিশের এই ইউনিটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনবল সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে ৭০০ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যেসব খানাখন্দ রয়েছে তার অধিকাংশই সড়ক বিভাগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। আর কিছু বাকি আছে তা দুয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে বর্তমানে ৩০০ টহল টিম কাজ করছে। ঈদযাত্রা শুরুর পর তা আরও বাড়ানো হবে। তবে মহাসড়কে চলাচলের বড় বাধা অবৈধ থ্রি হুইলার (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, প্রতি মাসে ৫-৬ হাজার থ্রি হুইলার জব্দ করা হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপরও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে থ্রি হুইলার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা ঈদে সড়কে থ্রি হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। 

এদিকে ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার মহাসড়কে ১৩৯টি হাটবাজার রয়েছে। সেগুলোর অধিকাংশই ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপসারণ করা হয়েছে। আর কিছু রয়েছে, যা অপসারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। 

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়ক থেকে অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনবল কম থাকায় ঠিকমতো কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে ৭০০ লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আরও ৩০০ আমরা চাচ্ছি। ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ রোধে নিয়মিত মহাসড়কে ৩০০ টিম কাজ করছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে এই টহল সংখ্যা আরও বাড়বে। তারা কোনো ঘটনা ঘটলে ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে। তিনি বলেন, একটি অ্যাপসের মাধ্যমে টহল টিম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অ্যাপসের নম্বর হাইওয়ে পুলিশেও দেওয়া আছে। চাইলে পরিবহন শ্রমিক, মালিকরা ও যাত্রীরা অ্যাপসে সংযুক্ত হতে পারবেন। তাহলে তারা দেখতে পারবেন হাইওয়ের কোথায় কোথায় পুলিশের টহল টিম আছে। 

এ বিষয়ে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যাপসে আমাদের নম্বরটা দেওয়া আছে। হোয়াটসঅ্যাপে অন করলেই ভুক্তভোগী কিংবা সাহায্যপ্রত্যাশী ব্যক্তি টহল পার্টির অবস্থান জানতে পারবেন। টহল পুলিশও জানতে পারবে যাত্রীর অবস্থান। মফস্বল বা জেলা শহরে যাওয়ার সময় আমরা সেখানকার টহল পার্টিকে জানিয়ে দেই স্কট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। 

ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিতে ১০৪টি ক্রসিং থাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪০০ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ১৩৫০ ক্যামেরা চালু আছে। তবে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটের সড়কে এখনও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 

নতুন সদস্য দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহনও দেওয়া হয়েছে হাইওয়ে পুলিশকে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রায় ডাকাতি-ছিনতাই রোধে ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মহাসড়কে বিভিন্ন ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার ডেটা অ্যানালাইসিস করে ১৪৪৩ অপরাধীর তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া এই তালিকা নিকটস্থ থানা ও জেলা পুলিশকে পাঠানো হয়েছে।

ডিআইজি শফিকুল জানান, সারা দেশে মহাসড়কগুলোর পাশে অন্তত ১৩৯টি হাটবাজার আছে। এই হাটবাজার অপসারণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষে এককভাবে উচ্ছেদ বা অপসারণ সম্ভব না। কারণ মহাসড়কের পাশে হাটবাজার পুলিশ ইজারা দেয় না, নিয়ন্ত্রণও করে না। উচ্ছেদ করতে গেলে শুনতে হয় ‘ইজারা নিয়ে আসছি’। এরপরও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এসব হাটবাজার উচ্ছেদের কাজ চলছে।

ঈদযাত্রায় যেন লক্কড়-ঝক্কড় বাস চলাচল না করে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অনুরোধ জানানোর কথা উল্লেখ করে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে আনফিট বাস ধরলে সরানো ও রাখার জায়গা লাগে। আমরা বিআরটিএকে অনুরোধ করছি, আনফিট বাসগুলোর মালিকদের নোটিস দেওয়া হোক। এ ছাড়া এবার আগে থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হোক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, মহাসড়কে এখনও নছিমন, করিমন, ভটভটি চলে। নতুন যন্ত্রণার নাম ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। মানুষকে কষ্ট দেওয়া, যানজটে ফেলা, দুর্ঘটনাসহ নিরাপদ চলাচলে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী এসব বাহন। সারা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে এসব পরিবহন দায়ী হলেও দোষ চাপানো হয় বাসে। তিনি বলেন, একটি সড়কের দেখভালের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। সড়কের সামনে গর্ত কিন্তু চালক জানে না, সে দেখছে রাস্তা ক্লিয়ার। একটু পর দুর্ঘটনা ঘটল! দায় কার? চালকের। এটা তো হতে পারে না তিনি বলেন, অনেক সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকায় আনফিট বাস চলে আসে। সুবিধামতো যাত্রী নিয়ে আবার চলে যায়। এ ধরনের বাস সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হলে বা বিকল হলে ভয়াবহ সমস্যা তৈরি হয়। 

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, উপদেষ্টা ও সচিব ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা ৬৪ জেলায় টিম গঠন করেছি। ঈদের ফিরতি যাত্রায় দুর্ঘটনা এড়াতে দক্ষ চালক নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের পর কিছু দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ, চালকের ছুটিতে থাকা। মূল চালকের সহযোগী বা সহকারী বাস চালান। তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয় বা ঘটেও। এ ক্ষেত্রে দক্ষ চালক যেন বাস চালান সেটি শ্রমিক ফেডারেশন ও বাস মালিকদের নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। 

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিআরটিএর এই পরিচালক বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ৬৪ জেলায় ভিজিলেন্স টিম থকবে। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা