প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৫০ পিএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১৪ পিএম
আসিয়ান সম্মেলনে কথা বলছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ছবি : সংগৃহীত
ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যা ইত্যাদির কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সবসময় বিশ্বশক্তির নজরে থেকেছে। নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে হওয়া সত্ত্বে এ অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের শেষ নেই। রাশিয়ারও এ অঞ্চল নিয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। আর স্বাভাবিকভাবে আঞ্চলিক পরাশক্তি চীন সেখানে নিজেদের আধিপত্য উত্তরোত্তর বাড়াতে চায়।
কিন্তু রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের অভিযোগ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিকায়ন ঘটাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে একটি যুদ্ধ যুদ্ধ পরিবেশ তৈরি করছে দেশটি। রাশিয়া ও চীনের স্বার্থকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশটি এমনটি করছে।
রয়টার্স ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিপুঞ্জের (আসিয়ান) ৪০ ও ৪১তম চার দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন রবিবার (১৩ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। ১০ সদস্যের জোটটির এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে।
সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের বাইরে এবারের আসিয়ান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রমুখ বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছেন।
রবিবার সম্মেলনের শেষদিন নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন লাভরভ। সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো এ অঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করতে চায়। বলা হয়ে থাকে ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটি একটি সামরিক জোট, যারা নানা সময়ে বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে। এরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে একের পর এক তাদের জোটের সদস্য করেছে। আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন তারা এ অঞ্চলেও একই কাজ করতে চায়। ন্যাটোর আদলে সামরিক জোট গঠন করতে চায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে।’
শনিবার (১২ নভেম্বর) আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক, দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান, জলবায়ু, স্বাস্থ্য খাতসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। চীনের আধিপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ‘আমরা এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক গঠন করতে চাই, যেটা হবে মুক্ত ও অবাধ। স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ। চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সক্ষম ও নিরাপদ।’ অন্যদিকে যথারীতি রাশিয়ার ইউক্রেন হামলারও নিন্দা করেন তিনি।
এদিকে আসিয়ানের সম্মেলনকে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) থেকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শুরু হতে যাওয়া জি-২০-এর শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন লাভরভ। জি-২০-এর দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যোগদানের কথা থাকলেও গত সপ্তাহে তা বাতিল করা হয়। তার পরিবর্তে লাভরভ সম্মেলনটির রুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।