প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪ ১৬:৩১ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৪ ০৮:৩৬ এএম
যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন। ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করেছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুই দেশের সরকারের মধ্যে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় যাদের আশ্রয়ের আবেদন খারিজ হয়েছে, পলাতক অপরাধী এবং যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে, তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কাজ বা ভ্রমণের ভিসা নিয়ে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে। এর ১২ মাস যেতে না যেতেই তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করে। তাদের মধ্যে কেবল ৫ শতাংশের আবেদন গৃহীত হয়েছে। বাকি ৯৫ শতাংশেরই আবেদন খারিজ করেছে যুক্তরাজ্য। তাদের এখন নতুন চুক্তির আওতায় যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে পাঠাবে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের অপসারণের গতি বাড়ানো হচ্ছে। অবৈধভাবে মানুষের এখানে আসা ও অবস্থান করা থামানো আমাদের পরিকল্পনার একটি অংশ। বাংলাদেশ আমাদের মূল্যবান অংশীদার। আমরা অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করতে পারছি। যা একটি চমৎকার বিষয়। ইতোমধ্যে দেখেছি অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে এই চুক্তিগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বৈশ্বিক সমস্যার জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক সমাধান। আমি বাংলাদেশ ও আমাদের অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’
চলতি সপ্তাহে লন্ডনে স্বরাষ্ট্রবিষয়ক প্রথম জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে উভয় দেশ এই চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হয়। এর আওতায় উভয় দেশ শক্তিশালী অংশীদারত্ব, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ানের একটি বৈঠক হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে এই ওয়ার্কিং গ্রুপটা তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেছেন যে অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ট্রেভেলিয়ান অবৈধ অভিবাসীদের নতুন প্রত্যাবাসন চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গত বছর ২৬ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজি নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। যা ২০২২ সালের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেশি।
সূত্র : গভ.ইউকে