প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ০৯:৪০ এএম
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:২৫ এএম
জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি।
নেভাদা অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসনে জয়ের মাধ্যমে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল।
সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (১২ নভেম্বর) নেভাদায় সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাডাম ল্যাক্সাল্টেরকে হারিয়ে ডেমোক্রেটের ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তোর জয়ের পর উচ্চকক্ষ নিয়ন্ত্রণে তাদের দলের অবস্থান নিশ্চিত হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত অ্যাডামকে হারিয়ে ক্যাথরিনের বিজয় ১১৮তম কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ৫০টি আসন নিশ্চিত করেছে। দেশটির ১০০টি আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫০টি আসন।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় বিজয়।'
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বেশ আগে থেকেই নানা মতামত শোনা যাচ্ছিল। বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে রিপাবলিকানদের কাঁধেই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। যে কারণে, ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হওয়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য স্বস্তির খবর বটে।
নেভাদায় ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির আসন রয়েছে ৪৯টি। এখনো জর্জিয়া সিনেট আসনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রথম রাউন্ডে দুই দলের প্রার্থীদের কেউ ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পাননি। যে কারণে ভোট দ্বিতীয় দফায় গড়িয়েছে। আগামী ৬ ডিসেম্বর সেই রানঅফ ভোট হবে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন যদি ওই সিনেট আসনে রিপাবলিকানরা জয়ী হন। তাহলে উচ্চকক্ষে সমান আসন থাকবে উভয় দলের। তবে সেক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস টাই ব্রেকিং ভোট কাস্ট করবেন, যাতে ডেমোক্রেটিক পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে।
গত মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটিতে এবং অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও সিনেটে ভোটাভুটি হয়েছে।
সর্বশেষ ফলাফলে নিম্নকক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ২১১টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের দরকার আর ৭টি আসন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২০৪টি আসন পেয়েছে।
এখন রিপাবলিকানদের হাতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে আগামী দুই বছর নিজের চাহিদা মতো আইন প্রণয়ন বা অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে পারবেন না প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিভিন্ন তদন্তও চালাতে পারেন রিপাবলিকানের সদস্যরা।
এর আগে বাইডেন বলেন, এ নির্বাচনের পর আমার রাজনৈতিক কৌশল ও নীতির পরিবর্তন হবে না। আমি যা করছি, তাতে অধিকাংশের সমর্থন রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ওপর সাধারণ মানুষের ব্যাপক আস্থা না রাখার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অসন্তুষ্টি। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে মূদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে অনেকাংশে।
অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ওপরও সাধারণ ভোটাররা খুব বেশি আস্থা রাখেননি। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান সমর্থকরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, সেটি অনেক ভোটার মনে রেখেছেন।
এবারের নির্বাচনের আগে আলোচনায় ছিল অর্থনৈতিক মন্দা, বন্দুক সহিংসতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং অভিবাসী সংকটের মতো ইস্যুগুলো। প্রচারেও এসব ইস্যু নিয়ে পরস্পরকে ঘায়েলের চেষ্টা চলে।