প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৫:৩৯ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ২০:৩৩ পিএম
ইসরাইলি হামলায় স্বজন হারিয়ে এক ফিলিস্তিনি নারী আহাজারি করছেন। বুধবার (৮ মে) দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করতে পারে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, এটা ‘মূল্যায়ন করা জরুরি’ যে, ওই অস্ত্রগুলো ইসরায়েল বাধ্য হয়ে ‘অসঙ্গত উপায়ে’ ব্যবহার করেছে কিনা।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই মূল্যায়ন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই জানিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, এ অবস্থায় অস্ত্রের চালান চলবে।
গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কংগ্রেসে জমা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র সংঘাতে জড়ানো ইসরায়েলসহ অন্য ছয়টি রাষ্ট্র কীভাবে ব্যবহার করছে তা পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছিল হোয়াইট হাউজ।
প্রতিবেদনে গাজায় ইসরালের কিছু অভিযান নিয়ে তীব্র তিরস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে সুস্পষ্ট করা হয়নি।
এতে বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ‘অন্যরকম মিলিটারি চ্যালেঞ্জর’ মুখে পড়েছে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের বৈধ ব্যবহারের বিষয়ে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছ থেকে ‘বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য’ আশ্বাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামাস যেহেতু ‘বেসামরিক নাগরিকদের স্থাপনা সামরিক’ কাজে এবং নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে সেক্ষেত্রে গাজার মতো যুদ্ধক্ষেত্রে বৈধ টার্গেট নির্ণয়ের তথ্য চূড়ান্ত করা প্রায়ই বেশ কঠিন।
এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ওপর ইসরায়েল ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব অস্ত্র দেশটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ব্যবহার করছে অথবা বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানে বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইসরায়েলের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু ব্যাপক প্রাণহানির কারণে এই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে, আইডিএফ সেগুলো সবক্ষেত্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে কি না।
বেসামরিকদের ক্ষতি কমাতে ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘অসঙ্গত, অকার্যকর এবং অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
যুদ্ধ শুরুর দিকে মানবিক সহায়তা ‘সম্প্রসারণে’ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ কার্যকরে ইসরায়েল পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি। তবে সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে কিংবা সীমিত করে দিচ্ছে, আমরা সেটা এখন মনে করছি না।
ইসরায়েলকে অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তরফ থেকে যে হুমকি এসেছে তার কয়েকদিন পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
গেল ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাংশে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রতিশোধ নিতে পাল্ট হামলা চালায় ইসরায়েল। তখন থেকে গাজায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলে মৃত্যু হয়েছে বারশ’ জনের।