প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৮:২৬ পিএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০৯ পিএম
খেরসনের নভোলেক্সান্দ্রিভকা গ্রামে ইউক্রেনের এক সেনা। ৯ নভেম্বর তোলা। ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের মস্কো অধিকৃত খেরসন অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার দুই দিনের মাথায় দিনিপ্রো বা দিনিপার নদীর পশ্চিম তীরে এ বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করল রাশিয়া।
অন্যদিকে একই সময় অঞ্চলটির প্রায় ৪১টি বসতি পুনর্নিন্ত্রণে নিয়েছে ইউক্রেন। তবে খেরসনের প্রায় ৬৬ হাজার বর্গমাইল অঞ্চলে রুশরা বিপুল মাইন ছড়িয়ে রেখেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রয়টার্স ও রাশিয়া টাইমসের (আরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুকবার (১১ নভেম্বর) সকালে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দিনিপার নদীর ডান (পশ্চিম) তীর থেকে সবকটি রুশ সেনা ইউনিট, সামরিক সরঞ্জাম, গাড়ি ইত্যাদি বাঁ (পূর্ব) তীরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা এখন সুবিধামতো জায়গায় নতুন ফ্রন্টলাইনে অবস্থান নিচ্ছেন।’
একই সময়ে যেসব সাধারণ মানুষ পশ্চিম তীর ত্যাগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিটিতে।
তবে, এত অল্প সময়ে এত বিশাল প্রত্যাহার অভিযান শেষ করা কঠিন জানিয়ে রাশিয়ার দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অলেক্সি রেজনিকভ রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘খেরসন থেকে সব রুশ সেনা প্রত্যাহার করতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।’
রেজনিকভের ধারণা, খেরসনে প্রায় ৪০ হাজার রুশ সেনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব সেনার একটা অংশ কেন্দ্রীয় খেরসনের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের সেনারা ইতোমধ্যে খেরসনের ৪১টি বসতি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে গোয়েন্দা তথ্যমতে, খেরসনের প্রায় ৬৬ হাজার বর্গমাইল অঞ্চলে মাইন ছড়িয়ে রেখেছে রুশরা। এসব সরাতে আমাদের এখনই কাজ শুরু করতে হবে।’
বুধবার (৯ নভেম্বর) সকালে এক টেলিভিশন বক্তৃতায় খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ঘোষণায় শোইগু বলেন, ‘খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু এড়াতে আঞ্চলিক রাজধানী খেরসন ত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়েছে।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর পর এখন পর্যন্ত তিনটি জায়গা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া। প্রথম দফায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশ থেকে মার্চে সেনা প্রত্যাহার করে রাশিয়া। এরপর উত্তরের শহর খারকিভ থেকে সেপ্টেম্বর সেনা প্রত্যাহার করা হয়।
কিন্তু খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহারটা বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ খেরসন বেহাত হওয়ায় ২০১৪ সালে মস্কো অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে স্থলপথে যাওয়ার জন্য আর কোনো রাস্তা নেই। তা ছাড়া ক্রিমিয়ার মিঠাপানির প্রায় ৮৫ শতাংশের জোগান আসে খেরসন থেকে। চাইলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাঁধ পুনর্নির্মাণ করে ক্রিমিয়ায় পানি সংকট তৈরি করতে পারবে ইউক্রেন।
আরেকটি বিষয়, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে গণভোট দিয়ে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রাশিয়া নিজের অংশ করে নেয়, খেরসন তাদের একটি। কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শহরটি হারানোটা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করেন পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এটা কিয়েভের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি পদক্ষেপ বলে মনে করেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।