ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দলের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর একটি আদালত।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৭ নভেম্বর) আদালত ওই নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার একটি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া জনপ্রিয় সিনেমা কেজিএফ-২-এর গান ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
দলের নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এ ক্যাম্পেইন শুরু হয়। গত মাসে ভারত জোড়ো যাত্রা যখন কর্ণাটক থেকে তেলেঙ্গানা যাচ্ছিল তখন গানটি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
ওই গান ব্যবহার নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে সংগীত পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমআরটি মিউজিক। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীসহ তিন কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সংগীত পরিচালক এম নবীন কুমার। অভিযোগে বলা হয়, গত মাসে কর্ণাটকে ভারত জোড়ো যাত্রার সময় অনুমতি ছাড়া এ গানের ব্যবহার কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি ভারত জোড়ো যাত্রা ক্যাম্পেইনের টুইটার অ্যাকাউন্টও সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশনা দেন আদালত।
এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক অভিযোগ করেন, ভারত জোড়ো যাত্রা প্রচারের ভিডিওতে কেজিএফ-২-এর গান ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় জানানো হয়, তারা আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন এবং আদেশের কোনো অনুলিপিও এখনো পাননি।
বার্তায় বলা হয়, ‘আইএনসি ও বিজেওয়াই এসএম অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু আদালতের একটি বিরূপ আদেশ সম্পর্কে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট জানতে পেরেছি। আমরা আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নই বা সেখানে উপস্থিতও ছিলাম না। ওই আদেশের কোনো অনুলিপিও পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা অনুসরণ করছি।’
আদালত বলেছেন, এভাবে অনুমতি ছাড়া গানের ব্যবহার সংগীত সংস্থাটির জন্য অপূরণীয় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাইরেসি বা কপিরাইট লঙ্ঘনকে উৎসাহিত করতে পারে বলেও জানান আদালত।
বেঙ্গালুরুর যশবন্তপুরে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে সংগীত সংস্থা বলেছে, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অনুমতি ছাড়াই কেজিএফ-২-এর জনপ্রিয় গানগুলো ব্যবহার করে দুটি যাত্রা ভিডিও টুইট করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ‘ভারত জোড়ো’ নামে ক্যাম্পেইন শুরু করে কংগ্রেস। এখন পর্যন্ত কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র—এ ছয়টি প্রদেশে এ যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।