প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৪ ১৬:২৭ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪ ১৬:২৯ পিএম
আল-শিফা হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে শতশত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। ছবি: সংগৃহীত
গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আবারও অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এ নিয়ে চতুর্থবার আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান চালাল ইসরায়েলি বাহিনী। রবিবার (১৭ মার্চ) রাত থেকে তারা এ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা। আল-শিফা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল।
ইসরায়েল সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা আল-শিফা হাসপাতাল তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ৮০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাসের যোদ্ধাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এতে হামাসের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে। ইসরায়েলের একজন সেনা ‘হালকা আহত’ হয়েছে।
ইসরায়েলের অভিযোগ, গাজার উত্তরাঞ্চলে হাসপাতালের ভিতর থেকে হামাসের তৎপরতা চালানোর ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ পেয়েছে তারা। তাই আল-শিফা হাসপাতাল ঘেরাও করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, হামাসের বন্দুকধারীরা আল-শিফা হাসপাতালের ভেতর থেকে তাদের ওপর গুলি ছুড়া শুরু করেছিল। পাল্টা গুলি ছুড়ে হামাসের সন্ত্রাসীদের আঘাত করেছে তারা। তারা হাসপাতাল এলাকায় এখনো তাদের তৎপরতা আব্যাহত রেখেছে। আর সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল হাসপাতালটি চারদিক থেকে অবরোধ করেছে। যার ফলে সেখানে আশ্রয় নেওয়া শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ, রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। যারা পালানোর চেষ্টা করছে তাদেরকে গুলি করা হচ্ছে। তারা এই অভিযানকে অসুস্থ্, আহত ও বাস্তুচ্যুতদের বিরুদ্ধে চালানো একটি গণহত্যা বলে অবিহিত করেছ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় ৪ হাজারের মতো। হামাস জিম্মি করে ২৪০ থেকে ২৫৩ জনকে। ইসরায়েল ধারণা করছে, এখনও প্রায় ১৩০ জন হামাসের কাছে জিম্মি আছে।
হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৪৯০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার ৩০০টি শিশুও আছে। ৮ হাজার ৬৬৩টি শিশুসহ ৭৩ হাজার ৪৩৯ জন আহত হয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা