প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫৪ পিএম
কিয়েভ শহর পুরোপুরি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা করছেন মেয়র। ছবি : সংগৃহীত
কিয়েভ পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বাসিন্দাদের শহর থেকে সরিয়ে ফেলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিটালি ক্লিতসকো।
বিবিসি জানিয়েছে, এর জন্য কিয়েভের বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকা উচিত বলেও সতর্ক করেছেন মেয়র।
সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলা করেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
কিয়েভ বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। রুশ হামলার ফলে লাখ লাখ বাসিন্দা বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে ও মেরামতের জন্য বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া হচ্ছে লোডশেডিংও।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া আবারও দেশটির অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঘিরে ব্যাপক আক্রমণ চালাতে পারে।
ইউক্রেনীয় টেলিভিশনে বক্তৃতায় মেয়র ক্লিতসকো অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘গণহত্যা’ উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়দের দরকার নেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। তার দরকার ভূখণ্ড, আমাদের ছাড়া ইউক্রেন দরকার তার।’
‘সেজন্য এখন যা কিছু ঘটছে (অবকাঠামোর ওপর হামলা) তা গণহত্যা। তার কাজ হলো আমাদের ঠান্ডায় মেরে ফেলা বা আমাদের ভূমি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা, যাতে তিনি এটি পেতে পারেন’, বলেন কিয়েভ মেয়র।
কিয়েভের আরেক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনও বন্ধ হয়ে যাবে।
শীতে কিয়েভের গড় তাপমাত্রা থাকে শূন্যের নিচে এবং রাতে আরও কমে যায়।
ক্লিতসকো জানান, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কর্তৃপক্ষ ‘সবকিছু’ করছে। তবুও যদি তা সম্ভব না হয় তবে বিকল্প পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কিয়েভের শহরতলীতে এখনও বিদ্যুৎ ও পানি আছে। তাই সেখানে বসবাসকারী বন্ধু, আত্মীয়স্বজনদের ৩০ লাখ নাগরিকের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে করে কিয়েভ পুরোপুরি বিদ্যুৎবিছিন্ন হয়ে পড়লেও ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে’ মোকাবিলার একটি পরিকল্পনা তাদের থাকে।
কর্তৃপক্ষ জ্বালানি, খাবার ও পানি মজুদ করছে জানিয়ে বাসিন্দাদেরও তা করা উচিত বলে মনে করেন ক্লিতসকো।
পাশাপাশি শহরজুড়ে কমপক্ষে ১ হাজার উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে লোকেরা জরুরি অবস্থায় উষ্ণতা পেতে সক্ষম হবে বলেও জানিয়েছেন মেয়র ক্লিতসকো।