প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:০১ এএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৭ এএম
সাবেক বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি : সংগৃহীত
বাবা হিন্দু, মা বৌদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের এই ‘সিকিমি সন্তান’-এর নাম রাখা হয়েছিল হর্ষবর্ধন শেরিং লা। খটোমটো ঠেকায় মুম্বাইয়ের স্কুল সেই পদবি পাল্টে করে দিয়েছিল শ্রিংলা। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আস্থায় রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কোন্নয়নে তাকে অন্যভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবার তাকে আইনপ্রণেতা হিসেবে দেখতে চাইছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তিনি দার্জিলিং আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে যাচ্ছেন।
বিজেপির সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শ্রিংলা বিজেপিতে যোগ দেবেন। যোগদান অনুষ্ঠান হবে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে।
খবরে বলা হয়েছে, দার্জিলিংয়ের ভূমিপুত্র হিসেবেই এই আসনে শ্রিংলাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে বিজেপি। ইতোমধ্যে প্রচারকৌশলও খানিকটা ঠিক হয়ে গেছেÑ ‘দার্জিলিং ভূমিপুত্রকে চায়, বহিরাগত নয়।’ এ নিয়ে সামনে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আসনে বিজেপির বর্তমান সংসদ সদস্য রাজু বিস্তারের সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব কথা শুরু করেছে। বিস্তা গোর্খা হলেও দার্জিলিংয়ের ভূমিপুত্র নন।
দলীয় সূত্রের খবর, রামমন্দির উদ্বোধনের দিন শ্রিংলাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন। দিল্লি থেকেই শ্রিংলা দাবি করেছিলেন, অমিত শাহ তাকে বিজেপিতে যোগ দিতে বলেছেন।
হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মতো আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শংকর। দেশের শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে দুজনেরই সুনাম রয়েছে। তবে শ্রিংলা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে হাইকমিশনার থাকার সময় ভারতকে দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন বলে প্রধানমন্ত্রী মোদিও স্বীকার করেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ও ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ কয়েক বছর ধরেই দার্জিলিংসহ ওই অঞ্চলকে একটি পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে গঠনের পক্ষে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। তাদের প্রধান যুক্তি, পূর্ব হিমালয়ের এই অংশের ঠিক ওপরে রয়েছে ভুটানের দোকলাম। সেখানে চীনের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণকে ভারত ঠেকাতে পারছে না।
দোকলাম অঞ্চলটি শিলিগুড়ির ‘চিকেন নেক করিডোর’ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার ওপরে; অর্থাৎ ফায়ারিং রেঞ্জের মধ্যে। এই অঞ্চলের দৈর্ঘ্যও ২০ কিলোমিটারের বেশি নয়। এই অঞ্চল দিয়েই উত্তর-পূর্ব ভারতে যাবতীয় পণ্য পরিবহন হয়। অঞ্চলটি ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হলে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এ অবস্থায় শিলিগুড়ি, দার্জিলিং প্রভৃতি অঞ্চলে নিরাপত্তা অবকাঠামো জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য ভূকৌশলগত রাজনীতি, কূটনীতি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন কাউকে এই অঞ্চলে লোকসভার সদস্য করতে চাইছে বিজেপির নেতৃত্ব।