প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:১০ পিএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:০৩ এএম
জীবন বাঁচাতে গাজা শহরের পশ্চিমে যাচ্ছিল হিন্দ। ছবি : সংগৃহীত
গাজা উপত্যকায় চাচা-চাচি ও চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে একটি গাড়িতে করে ‘নিরাপদ আশ্রয়ে’ যাচ্ছিল ছয় বছর বয়সি মেয়েশিশু হিন্দ রজব। এ সময় তাদের গাড়ি ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে পড়ে। এতে সবাই নিহত হয়। তাদের মরদেহ ঘটনার ১২ দিন পর শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উদ্ধার করা হয়েছে।
হিন্দ ও তার আত্মীয়দের নিয়ে ২৯ জানুয়ারি গাড়িটি গাজা সিটি থেকে পালাচ্ছিল। এ সময় গাড়িটিতে ইসরায়েলি সেনারা বন্দুক ও গোলা নিয়ে হামলা চালায়। তাৎক্ষণিকভাবে হিন্দ ছাড়া বাকি পাঁচজন মারা যায়।
ছোট্ট হিন্দ জরুরি কেন্দ্রে ফোন দিয়ে উদ্ধারের আহ্বান জানায়। বিষয়টি গাজায় কর্মরত রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (পিআরসিএস) জানানো হয়। তারা গাজায় অভিযানরত ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কয়েক ঘণ্টার আলোচনা শেষে ঘটনা স্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দিতে সম্মত হয় ইসরায়েল।
ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর দুজন প্যারামেডিক নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠায় পিআরসিএস। কিন্তু অনুমতি সত্ত্বেও অ্যাম্বুলেন্সটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা দুই প্যারামেডিক ইউসুফ আল-জেইনো ও আহমেদ আল-মাধুনও নিহত হন।
এরপর শনিবারের আগে ওই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। হিন্দ বা ওই দুই প্যারামেডিকের কী হয়েছে তা-ও জানা যায়নি। ১০ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থলে যায় পিআরসিএসর একটি দল। তারা একটি গাড়ি থেকে হিন্দ ও তার পাঁচ আত্মীয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
অদূরে আরেকটি বিধ্বস্ত অ্যাম্বুলেন্স থেকে উদ্ধার করা হয় পিআরসিএস দুই প্যারামেডিকের মরদেহ।
অ্যাম্বুলেন্স ও হিন্দদের দুটি গাড়িই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গোলায় জর্জরিত হয়ে যায়।
হিন্দর মা উইসাম এখনও তার ছোট্ট গোলাপি ব্যাগ যার মাঝে হিন্দর হাতের লেখার বই আছে তা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর কত মায়ের তার সন্তানকে হারাতে হবে?’
৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ২৮ হাজার ৬৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারী ৭০ শতাংশের বেশি। একই সময়ে আহত হয়েছে ৬৭ হাজার ৬১১ জন।
সূত্র : বিবিসি