প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১২ পিএম
অনুশীলনের সময় মিয়ানমারের বিমান বাহিনী সামরিক বিমান থেকে বোমা ফেলছে।
মিয়ানমারে বেসামরিক বিমানের জ্বালানির চালান বিমান বাহিনীর জন্য সরবরাহের কারণে সেদেশে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
তারা জানিয়েছে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানোর জন্য সামরিক সরকার এই জ্বালানি ব্যবহার করছে।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, জ্বালানী সংস্থাগুলোকে অবশ্যই মিয়ানমারে বিমানের জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, কারণ সেখানে বেসামরিক বিমান ব্যবহারের জন্য পাঠানো চালানগুলো সামরিক বিমানে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মিয়ানমারের বিমান বাহিনী যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, ‘মানবাধিকারের জন্য স্পষ্ট অবমাননা এবং বারবার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি সামরিক বাহিনীর বিমানের জ্বালানি সরবরাহে অংশ নেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। এই বিমান হামলা পরিবারগুলোকে ধ্বংস করছে, বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করছে এবং বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি না পেলে বিমানগুলো উড়তে পারবে না এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরবরাহকারী, শিপিং এজেন্ট, জাহাজের মালিক এবং সামুদ্রিক বীমাকারীদের এই সরবরাহ চেইন থেকে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যা মিয়ানমারের বিমান বাহিনীকে উপকৃত করছে।’
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেখানে সামরিক বাহিনীর হাতে ২,৩০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এদের অধিকাংশই বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, সংস্থাটি গবেষণার সময় ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের আগস্টের মধ্যে কায়া, কাইন এবং চিন রাজ্যের পাশাপাশি সাগাইং অঞ্চলে ১৬টি বিমান হামলা নথিভুক্ত করেছে।
তারা জানিয়েছে, বিমান হামলায় বাড়িঘর, ধর্মীয় ভবন, স্কুল, হাসপাতাল এবং বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবির ধ্বংস হয়।
দুটি বিমান হামলায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ।
অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, তারা চারটি সামরিক বিমান ঘাঁটি - হামাউবি, ম্যাগওয়ে, তাদা-উ এবং টাংগুকে যুদ্ধাপরাধের সামিল পরিমানে হামলার সাথে যুক্ত করেছে।
অ্যামনেস্টি বলেছে, ‘এই নথিভুক্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হামলার সময় হামলার স্থানে শুধুমাত্র বেসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।’