প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
মংডুতে জান্তার বাহিনী থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে আরাকান আর্মিরা। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির (এএ) কাছে একের পর এক শহর হারাচ্ছে জান্তার সেনাবাহিনী। রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মংডু শহরের টাং প্রো লেট ইয়ার সামরিক চৌকিটিও দখলে নিয়েছে এএ। মিয়ানমারের নারিনজারা নামের একটি অনলাইন গণমাধ্যম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আরাকান আর্মি রবিবার সকাল ৬টার দিকে উত্তর মংডুর উত্তর মংডুর তৌং প্রো লেট ইয়ার এবং টাঙ্গ প্রো লেট ওয়ে নামের দুটি সামরিক চৌকিতে হামলা চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। কয়েক ঘণ্টার গোলাগুলি ও কামানের গোলায় পুরো অঞ্চল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জান্তার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
জান্তার বাহিনী পিছু হটলে চৌকিটি দখলে নেয় আরাকান আর্মি। সেখান থেকে তারা বেশ কয়েকজন সেনার মরদেহ উদ্ধার করে। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও আরাকান আর্মির হাতে আসে।
গত অক্টোবর থেকে রাখাইন প্রদেশে জান্তার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একটি জোট। আরাকান আর্মি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি জোটটির তিন সদস্য। আরাকান আর্মি জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রবিবারের অভিযানে আরাকান আর্মির বেশ কয়েকজন যোদ্ধাও প্রাণ হারিয়েছেন।
অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘাত চললেও কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। গত দুই দিনে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) অন্তত ৯৫ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
মংডুর ছাড়া আরাকান আর্মির যোদ্ধারা রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ, মিনবিয়া এবং কিয়াকতাও শহরের জান্তা চৌকিগুলোও দখল নেওয়ার জন্য হামলা শুরু করেছে। এসব এলাকায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তা সৈন্যদের লড়াই চলছে।
নিহত ৬২ সেনা
রাখাইন ছাড়াও মিয়ানমারের অন্য রাজ্যেও জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে টানা হামলা চালাচ্ছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। গত তিন দিনে দেশটির বিভিন্নি প্রান্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে জান্তার অন্তত ৬২ সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অনেকগুলো শহর জান্তার হাতছাড়া হয়েছে।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী নিউজ জানায়, দখল হওয়া ঘাঁটিগুলো মিয়ানমারের সাগাইং, ম্যাগউই, মান্দালয় জেলা এবং কাচীন ও কারেন প্রদেশে অবস্থিত। তবে বিদ্রোহীরা এখন পর্যন্ত কতগুলো ঘাঁটি দখলে নিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব হামলায় প্রধানত জান্তাবিরোধী সাধারণ জোট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফোর্স (পিডিএফ) এবং এথনিক আর্মড অর্গানাইজেশন (ইআও) সংঘাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।