নির্বাচন ইস্যু
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৩ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:৪৯ পিএম
যুক্তরষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো এবারও হস্তক্ষেপ করেছে ভারত। অথচ সেখানে গণতন্ত্র সমুন্নত করতে কাজ করছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে শেষ মুহূর্তে ভারতের প্রভাবের কাছেই নতি স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর, না। তারা বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গণতন্ত্র বিকাশে এখনও অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র ম্যাথু মিলারকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেছেন। ম্যাথু মিলারকে ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কানাডার একটি তদন্তে দেখে গেছে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনও হস্তক্ষেপ করেছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো এবারের একতরফা নির্বাচনেও হস্তক্ষেপ করেছে ভারত। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে এ কথা স্বীকার করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সমালোচকদের দাবি, ভারতীয় প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশের অবস্থান থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
উত্তরে মিলার বলেন, আপনি যে কানাডিয়ান তদন্তের কথা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে আমার কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এটা কানাডার কথা বলার বিষয়। বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি বলব বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আমরা গণতন্ত্র, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক নীতিমালাকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রেখেছি, যা সব বাংলাদেশির জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য জরুরি।
ওই সাংবাদিক ফের প্রশ্ন করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী, যাদের আটক রাখা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন। ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে জালিয়াতি করার জন্য বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের, বিএনপি নেতাদেরসহ বিরোধী ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে শাসকগোষ্ঠী। নির্বাচনের আগেই ঘোষিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতির প্রেক্ষিতে গণতন্ত্রকে কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
জবাবে মিলার বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন নিয়ে এর আগেই আমাদের উদ্বেগ জানাতে শুনেছেন আপনি। আমরা দেখতে পেয়েছি ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা বলেন, আমি দুটি জিনিস বলব। এক. গ্রেপ্তার করা সবার বিষয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং নাগরিক জীবনে বিরোধীদলীয় সদস্য ও মিডিয়ার পেশাদারদের, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ অনুমোদন করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই। এসব দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এগিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রাখব।
সূত্র : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের ওয়েবসাইট