× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমরান খান-বুশরা বিবিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৩ এএম

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৪ পিএম

বুশরা বিবি (বাঁয়ে) ও ইমরান খান। ২০২৩ সালে লাহোর হাইকোর্টে। ছবি : সংগৃহীত

বুশরা বিবি (বাঁয়ে) ও ইমরান খান। ২০২৩ সালে লাহোর হাইকোর্টে। ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটি দুর্নীতি দমন বিষয়ক একটি আদালত। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে দুর্নীতি বিষয়ক আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বশির এ রায় দিয়েছেন। তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আগের দিন মঙ্গলবার ইমরান খান ও তার মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ আদালত। রাষ্ট্রীয় গোপন নথি প্রকাশ করা বিষয়ক এক মামলায় তাদের এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা সাইফার মামলা হিসেবে পরিচিত। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এ রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক আবুল হাসনাত জুলকারনাইন।

রায় ঘোষণার সময় ইমরান ও কোরেশি উপস্থিত ছিলেন। তারা উভয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। 

ইতঃপূর্বে আগস্টে তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় ইমরানকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তখন তাকে পাঁচ বছর রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়।

এসব সাজার কারণে ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খানের অংশগ্রহণ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

১৪ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইমরান ও বুশরাকে ১০ বছর সব ধরনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তা ছাড়া প্রত্যেককে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। 

রায় ঘোষণার সময় আদালতে ইমরান খান উপস্থিত থাকলেও তার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।

আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দি দ্বিতীয়বার যাচাই করার অধিকার বাতিল করে দিয়েছেন। দেশটির কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ৩৪২ সেকশন মোতাবেক ইমরান ও তার স্ত্রীকে বিবৃতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তোশাখানা মামলা কী

তোশাখানা মানে সরকারি কোষাগার। পাকিস্তানে বিদেশি নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া যেকোনো উপহার সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ইমরান খান তার প্রাপ্ত উপহার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন। এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তাকে তোশাখানা মামলা বলা হচ্ছে। তোশাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।

শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, সাংবিধানিক পদে বসা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

২০১৮ সালে ইমরান খান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি কোনো নিয়ম মানেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইমরান খানের যুক্তি ছিল, এটি করলে অন্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক হুমকির মুখে ফেলবে।

কিন্তু পরে ক্ষমতাসীন জোটের কিছু আইনপ্রণেতা জাতীয় পরিষদের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ইমরান খানকে অভিযুক্ত করা হয় যে, তার প্রাপ্ত উপহারের বিবরণ তোশাখানায় হস্তান্তর করা হয়নি। সেগুলো বিক্রি করে অর্থ আয় করেছেন। পরে পাকিস্তানের স্পিকার তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার কাছে পাঠিয়ে দেন।

এ অবস্থায় ২০২২ সালের এপ্রিলে এক অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

এরপর ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ইমরান খানকে নোটিস দেয় দেশটির জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (এনএবি)। ইমরান এ নোটিসের জবাব দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি যে চারটি উপহার পেয়েছিলেন তা বিক্রি করে দিয়েছিলেন। উপহারের মধ্যে একটি গ্রাফ, একটি রোলেক্স ঘড়ি, এক জোড়া কাফলিঙ্ক, একটি দামি কলম, বেশ কয়েকটি ধাতব জিনিসপত্র ও একটি আংটি ছিল।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইমরান খানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনে এনএবি। এতে ইমরানের পাশাপাশি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তারা সৌদি যুবরাজের থেকে অলংকার উপহার পেয়েছিলেন। তা কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরাই ব্যবহার করেছেন বা বিক্রি করে দিয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়। মঙ্গলবার সাইফার মামলায় সেনা সদর দপ্তরে হামলাসহ ৯ মের সহিংসতার ঘটনায় ইমরানকে নতুন করে অন্তত ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সূত্র : দ্য ডন, আলজাজিরা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা