গবেষণা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:০৩ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:০৭ এএম
একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মানসিক চাপে থাকা উদ্ভিদের করা শব্দ প্রথমবারের মতো ধারণ করেন বিজ্ঞনীরা। ছবি : সংগৃহীত
গাছপালা নানা উপায়ে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলে আগেই জেনেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এবার প্রথমবারের মতো যোগাযোগের রিয়েল টাইম ভিডিও ফুটজ পেয়েছেন তারা। এতে দেখা গেছে, প্রতিবেশী উদ্ভিদের সুরক্ষায় কীভাবে সাড়া দেয় বৃক্ষ।
সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ের আণবিক জীববিজ্ঞানী মাসাতসুগু টয়োটার নেতৃত্বে করা এই গবেষণা বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘নেচার কমিউনিকেশনে’ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পিএইচডি শিক্ষার্থী ইউরি আরতানি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষক তাকুয়া উয়েমুরা।
টয়োটা বলেন, ‘হুমকির মুখে থাকা নিকটতম গাছ থেকে আসা সতর্কবার্তায় অন্য গাছ কখন, কোথায় এবং কীভাবে সাড়া দেয়, তার জটিল গল্প আমরা অবশেষে উন্মোচন করেছি।’
উদ্ভিদের এ যোগাযোগটি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি পরীক্ষা করেন। তারা একটি পাত্রে কিছু পাতা এবং শুঁয়োপোকাকে রাখেন; আরেকটি পাত্রে অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা নামে এক ধরনের সরিষা গাছের আগাছা রাখেন। দুটি পাত্রকে একটি বায়ু পাম্পের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
সায়েন্স অ্যালার্ট জানিয়েছে, শুঁয়োপোকাগুলোকে টমেটো গাছ এবং অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা পাতা দেওয়া হয়েছিল খাওয়ার জন্য। গবেষকরা তখন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন কীভাবে অক্ষত এবং পোকামাকড়মুক্ত দ্বিতীয় অ্যারাবিডোপসিস উদ্ভিদটি ক্ষতিগ্রস্ত টমেটো গাছ এবং অ্যারাবিডোপসিস থালিয়ানা পাতা থেকে নির্গত উদ্বায়ী যৌগের সংকেতে সাড়া দেয়।
গত বছর এক গবেষণায় ইসরায়েলি বিজ্ঞানীরা জানান, গাছপালা চাপে থাকলে নানা উপায়ে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। যেমন- তারা পাতার রঙ বদলে ফেলে, নিজের স্বাদ তিক্ত করে বা গন্ধ ছড়িয়ে তারা বিপদে পড়ার বার্তা অন্য গাছপালাকে জানাতে পারে।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই গবেষণাটি সে বছর মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘সেল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, গাছের একেক প্রজাতি একেক ধরনের ‘ভাষায়’ নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চালায়। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে তারা মানসিকভাবে চাপে থাকা উদ্ভিদের করা শব্দ ধারণ করেছেন।
তারা আরও জানান, উদ্ভিদ ক্লিকের মাধ্যমে ‘কথোপকথন’ চালায়। এই শব্দ পপকর্ন ভাজার সময় তা ফেটে গেলে যে ধরনের শব্দ হয় অনেকটা সে রকম। এই নিঃসৃত শব্দ অনেকটা মানুষের কথা বলার মতোই। তবে এর ফ্রিকোয়েন্সি থাকে অনেক বেশি, যা মানুষের শ্রবণসীমার বাইরে।