প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:১৬ এএম
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৯ এএম
আইসিজে ইসরায়েলকে কিছু জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গাজায় গণহত্যাবিষয়ক মামলায় আজ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজে রায় দেবেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতটিতে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় শুনানি শুরু হবে। শুনানিতে আদালত ইসরায়েলকে কিছু জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলাটিতে ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক হাজির করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি, ইসরায়েল জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।
ইসরায়েল দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করেছে। দেশটির অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা তথ্য ও ঘটনা বিকৃত করছে।
আইসিজের রায় জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো আইনত মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু আদালতের রায় বা নির্দেশনা ইসরায়েল যে মেনে চলবে না তা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়, এমনটিই বলা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে রায় বাস্তবায়ন করার জন্য আইসিজের কোনো ব্যবস্থা বা আয়োজন নেই। তবে ইসরায়েল বাস্তবায়ন না করলেও আইসিজের রায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এতে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ওপর যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ আরও বাড়বে।
আজকের রায় শুনানিতে মোট ১৭ জন বিচারক অংশ নেবেন। এর মধ্যে আইসিজের স্থায়ী বিচারক ১৫ জন। আর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলের একজন করে বিচারক রয়েছেন।
গত বছর ৭ অক্টোবর রাতে ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় ৫ হাজার। হামাস ধরে নিয়ে আসে প্রায় ২৪০ জন। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় গাজায় পূর্ণ যুদ্ধ ঘোষণা করে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর আকাশ, স্থল ও সাগর থেকে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। দুই সপ্তাহের মাথায় ইসরায়েলি সেনারা গাজায় প্রবেশ করে। তারা ইতোমধ্যে উত্তর গাজা দখল করে নিয়েছে। এখন দক্ষিণ গাজায় চলছে তাণ্ডব।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ইতোমধ্যে ২৫ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৬৩ হাজারের বেশি। স্থানচ্যুত হয়েছে ১৯ লাখ মানুষ, যা উপত্যকাটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ।
সূত্র : বিবিসি