× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইসিজেতে গণহত্যার শুনানি

গাজায় হামলা বন্ধের অনুরোধ ‘বিবেকবর্জিত’ কাজ : ইসরায়েল

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:০৫ পিএম

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগবিষয়ক মামলায় শুনানি চলছে। ১২ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক আদালতে। ছবি : সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগবিষয়ক মামলায় শুনানি চলছে। ১২ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক আদালতে। ছবি : সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে করা একটি মামলার চলমান শুনানিতে শুক্রবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের আইনজীবী ও কর্মকর্তারা গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। উল্টো গাজায় হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি অনুরোধকে ‘বিবেকবর্জিত’ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তারা। 

গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা করছে- এমন অভিযোগে আইসিজেতে সম্প্রতি মামলাটি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) শুনানির প্রথম দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা। 

শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী আদিলা হাসিম বলেন, ইসরায়েল গাজায় সপ্তাহে প্রায় ৬ হাজার বোমা ফেলছে। কাউকে রেহাই দিচ্ছে না। এমনকি নবজাতকদেরও। জাতিসংঘ মহাসচিব গাজাকে শিশুদের কবরস্থান বলে মন্তব্য করেছেন। 

হাসিম বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ইহুদিরা গণহত্যার শিকার হয়, যা হলোকাস্ট হিসেবে পরিচিত। এ গণহত্যার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার আলোকে ১৯৪৮ সালে জেনোসাইড কনভেনশন পাস হয়। গণহত্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এ কনভেনশন করা হয়েছিল। অথচ আজকেই ইহুদিরাই প্রতিবেশী দেশের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। গাজাকে ধ্বংস করতে চাইছে। তাই আইসিজের প্রতি আমাদের আর্জি, ইসরায়েলকে এক্ষুনিই গণহত্যা বন্ধ করতে নির্দেশ দিন। 

শুনানির দ্বিতীয় দিন আইসিজেতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ইসরায়েলের আইনজীবী ও কর্মকর্তারা। শুনানিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র বিভাগের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা তাল বেকার বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গভীরভাবে বিবৃত ও অসত্য তথ্য ও চিত্র উপস্থাপন করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের আইনজীবীদের যুক্তির সঙ্গে হামাসের যুক্তির কোনো তফাত নেই। হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বলা একটি বিবেকবর্জিত অনুরোধ। এ অনুরোধের মধ্যে ইসরায়েলের স্বাভাবিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা রয়েছে। 

আইসিজেতে ইসরায়েলে পক্ষের প্রধান আইনজীবী ম্যালকম শ। যুক্তরাজ্যের লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের এ অধ্যাপক বলেন, ইসরায়েলের গাজা অভিযান হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার আলোকে দেখতে হবে। এটা ঠিক যে, হামাসের হামলার কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অধিকার তৈরি হয় না। তবে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরায়েলের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও যে আছে, সেটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। 

আন্তর্জাতিক আইনের অভিজ্ঞ এ অধ্যাপক বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির মূল অভিযোগ গণহত্যা। গণহত্যা হলো শয়তানদের আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাই গণহত্যা সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা না গেলে মামলাটিই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। 

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসরায়েলের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত ছিল। ইসরায়েলের পরে প্রাথমিক মত দেবেন আইসিজে। সম্ভব শনিবার এ মতামত দেওয়া হবে। 

আইসিজের প্রাথমিক মতামতের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল ফের পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। 

জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা দুটি বিষয়ে জোর দিচ্ছে। এক. গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা করছে। দুই. ইসরায়েলকে কালবিলম্ব না করে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ উত্থাপন করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। যেটা করেছে তা দেওয়ানি মামলা। তাই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে আইসিজে বড়জোর একটি সাধারণ মত দিতে পারেন। এর বেশি কিছু নয়। 

অর্থাৎ এ শুনানি থেকে ইসরায়েলকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করবে না আইসিজে। ওই ধরনের রায়ের জন্য মামলাটিকে প্রথম ফৌজদারি হতে হবে। তা ছাড়া কয়েক বছর আগে এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব নয়।  

তবে শিগগির যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাতে পারে আন্তর্জাতিক আইসিজে। কিন্তু ইসরায়েল যে তা মানবে না, তা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়। 

জাতিসংঘের সব সদস্যের জন্য আইসিজের রায় মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রায় বাস্তবায়ন করার জন্য নিজেদের কোনো ম্যাকানিজম নেই আইসিজের। ফলে অনেক দেশ আদালতটির রায় এড়িয়ে যায়। 

২০২২ সালে রাশিয়াকে ইউক্রেন হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আইসিজে। কিন্তু রুশ হামলা এখনও চলছে। 

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের ৭০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু। 

৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। হামাস ধরে নিয়ে আসে ২৪০। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

জবাবে গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। যুদ্ধ ২০২৪ সাল পুরোটাজুড়ে চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। 

সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা, গার্ডিয়ান



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা