প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২২ ১৬:১১ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৫৬ পিএম
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও জইর বলসোনারো। ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো এখনও মুখ খোলেননি। পরাজয়ও স্বীকার করেননি বামপন্থি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে। রবিবার (৩০ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটি শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বলসোনারোর নীরবতা নানা শঙ্কার ডালপালার জন্ম দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের একটা অংশের শঙ্কা, বলসোনারো হয়তো নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে লুলা ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর বলসোনারো পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ। ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে লুলার মতো এত কম ভোটে কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়ার নজির নেই।
১ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন লুলা। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে ৭৭ বছর বয়সি লুলাকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সংকট, আমাজনের বনভূমি ধ্বংস এবং শক্তিশালী ও ক্ষুব্ধ ডানপন্থিদের মোকাবিলা।
কিন্তু বলসোনারো পরাজয় স্বীকার করে নেবেন কি না, সেটাই এ মুহূর্তের মুখ্য প্রশ্ন। ফলাফলের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে, এমনকি তার প্রিয় সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ কিছু মিত্র প্রকাশ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ক্ষমতাশালী স্পিকার আর্থার লিরা।
এদিকে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা লুলা তার বিজয়ী ভাষণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাকে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো, জার্মানির ওলাফ শলৎজ, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসসহ অন্য বিশ্বনেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ফল ঘোষণার পর রবিবার রাতে লুলা তার ভাষণে পরাজয় স্বীকার না করার কারণে তারা বলসোনারোর সমালোচনা করেন। লুলা বলেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ হলে পরাজিত প্রেসিডেন্ট তার পরাজয় স্বীকার করে বিজয়ীকে ফোন করতেন।
দুর্নীতির কারণে লুলার ১৮ মাস কারাদণ্ড হয়েছিল। জয়ের পর তিনি বিভক্ত দেশকে শান্তি ও ঐক্যের পথে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
প্রবা/টিএ/জেও