প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ১৭:০৩ পিএম
সাইফুল্লাহ পারাচা।
যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কিউবার গুয়ান্তানামো বে কারাগারে প্রায় ২০ বছর ধরে বিনা বিচারে আটক থাকার পর সাইফুল্লাহ পারাচাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সাইফুল্লাহ পারাচা পাকিস্তানি নাগরিক বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
পেশায় ব্যবসায়ী পারাচা সাইফুল্লাহকে ২০০৩ সালে থাইল্যান্ড থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি জঙ্গিগোষ্ঠীকে অর্থায়নে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, সাইফুল্লাহর সঙ্গে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন ও খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। ২০০৮ সালে তার আইনজীবী স্বীকার করেন, ১৯৯৯ সালে ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তিনি দেখা করেছিলেন টেলিভিশন চ্যানেলের একটি প্রোগ্রামের জন্য।
কিন্তু আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত থাকা ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়ে বরাবরই অস্বীকার করেছিলেন সাইফুল্লাহ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বন্দি থাকা সাইফুল্লাহ পারাচাকে শনিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পারাচার সঙ্গে ছাড়া পেয়েছেন ৫৫ বছর বয়সি আরেক পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল রব্বানি ও ৪১ বছর বয়সি ইয়েমেনের বাসিন্দা উসমান আবদুল আল-রহিম উসমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আনন্দিত যে বিদেশে আটক একজন পাকিস্তানি নাগরিক অবশেষে তার পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।’
গত বছরই জো বাইডেন তার মুক্তির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
চলতি বছর মে মাসে আমেরিকা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, সাইফুল্লাহ তাদের জন্য আর কোনো হুমকি নয়।
গুয়ানতানামোর বেশিরভাগ বন্দির মতোই পারাচার বয়স ৭৪ বা ৭৫ বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে কখনও অভিযোগ আনা হয়নি, অথচ নিজের আটকাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো পূর্ণ আইনি সক্ষমতাও তার ছিল না।
২০০১ সালে আমেরিকা আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক অর্নিদিষ্টকালের যুদ্ধ শুরু হয়। সে সময় আল-কায়েদার সন্দেহভাজন সদস্যদের আটক রাখার জন্য কিউবার গুয়ান্তানামো বেতে কারাগার স্থাপন করা হয়।
গুয়ান্তানামোতে আটক ছিলেন ৭৮০ জন বন্দি। এর মধ্যে ৭৩২ জনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা ছাড়াই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়া প্রত্যেকেই এই বন্দিশিবিরে এক দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন।
এই বন্দিশিবিরে এখনও আটক রয়েছেন ৪০ জন মানুষ। আমেরিকা বলছে, বাকি যারা বন্দি আছেন, তাদের অনেকেই ৯/১১ হামলা ও অন্যান্য আমেরিকার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
প্রবা/জিজি/এমজে