প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:২৪ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:০৮ পিএম
নিহতদের নিয়ে শোক করছেন ফিলিস্তিনিরা। ২৫ ডিসেম্বর মধ্য গাজায়। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের দক্ষিণ জেরুজালেমের বেথেলহাম খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুর জন্মস্থান। বড়দিনে প্রতিবছর বেথেলহামের শহর, রাস্তা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল আলোকসজ্জায় জেগে থাকে। কিন্তু এবার তা হয়নি। এবারের মতো বিষণ্ন, নিরানন্দ বড়দিন সর্বশেষ কবে উদযাপিত হয়েছিল, তা বেথেলহামবাসীর জানা নেই।
বেথেলহামের এবারের বড়দিন কেন এতটা শোকাচ্ছন্ন তা ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। পার্শ্ববর্তী গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের নিধনযজ্ঞ এবারের বড়দিনের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। যিশুরু জন্মভূমি আজ অশান্ত। অথচ আজীবন শান্তি ও সহাবস্থার বাণী প্রচার করে গেছেন মানবপুত্র যিশু।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোরেও গাজার দক্ষিণের শহর খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে সোমবার ভোরে পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
আগের দিন রবিবার তথা বড়দিনের সন্ধ্যায় গাজার আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। এর অধিকাংশই নারী ও শিশু।
রবিবার হামলার পর গাজার শরণার্থী বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেন, সেখানে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তথ্যমতে, রবিবার রাতে তিনটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় একটি জনবহুল আবাসিক ব্লক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে শিশু ৮ হাজারের বেশি। নারী সাড়ে ৬ হাজারের বেশি। আহত হয়েছে আরও ৫৪ হাজার।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে নিহত হয়েছে ৩০৩ জন এবং আহত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৪৫০ জন।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এতে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়।
এরপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েল নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। মাঝে-মধ্যে বিমান হামলাও চলছে। এ অবস্থায় সেখানে বড়দিন উদযাপনের মতো পরিস্থিতি নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
পশ্চিম তীরের আলেকজান্ডার হোটেলের মালিক জোয়ি কানাভাতি রয়টার্সকে বলেন, আমরা চার প্রজন্ম ধরে বেথেলহামে বসবাস করছি। আমাদের জীবনধারণের প্রধান উৎস এই হোটেল। কিন্তু আজ আমাদের হোটেলে একজনও অতিথি নেই। এটি আমার জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে খারাপ বড়দিন। বেথেলহামে বড়দিনের উৎসব বাতিল করা হয়েছে। কোনো ক্রিসমাস ট্রি নেই, কোনো আনন্দ নেই! এমন বড়দিন জীবনে দেখিনি।
প্রতিবছর বড়দিনের উৎসবের কেন্দ্রে থাকে বেথেলহামের চার্চ অব দ্য নেটিভিটির সামনের একটি বড় পাকা জায়গা, যেটি ম্যাঞ্জার স্কোয়ার নামে পরিচিত। এবারের বড়দিনে সেটি সুনসান, নীরব এবং প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আশপাশের রাস্তার দোকানগুলো প্রায় সবই বন্ধ।
পোপের দুঃখ
বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে যিশুর শান্তির বার্তা উপেক্ষা করে তারই জন্মস্থানের পবিত্র ভূমিতে ইসরায়েলি যুদ্ধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
সোমবার দেওয়া এক ভাষণে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, আজ আমাদের হৃদয় বেথেলহামে রয়েছে। যেখানে অনর্থক যুদ্ধের যুক্তি দেখিয়ে যিশুর শান্তির বার্তাকে আবারও উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি অস্ত্রের সংঘর্ষের মাধ্যমে আজও তাকে পৃথিবীতে শান্তিময় স্থান খুঁজে পেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।